♎ তুলা রাশির বর্তমান অবস্থা
এখন সাড়েসাতি চলছে না
তুলা রাশিতে এখন সাড়েসাতি নেই। শনি মীনে থাকায় তিনি তুলা থেকে ষষ্ঠ অর্থাৎ উপচয়স্থানে রয়েছেন। ষষ্ঠ ভাবের শনি প্রতিযোগিতা, ঋণ ও শত্রু — তিনটিতেই উপরে হাত দেন। মার্চ ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭ এই রাশির পক্ষে লড়ে জেতার সময়।
তুলার সাড়েসাতি শুরু হবে শনি কন্যায় গেলে — আনুমানিক ২০৪০ নাগাদ। জন্ম শনির পর্ব ২০৪২ থেকে ২০৪৫ এবং উত্তরণ শনি বৃশ্চিকে থাকাকালীন ২০৪৫ থেকে ২০৪৭। বারোটি রাশির মধ্যে তুলার অবস্থান আলাদা, কারণ শনি তুলাতেই উচ্চ হন — অর্থাৎ এই রাশির সাড়েসাতির সবচেয়ে তীব্র পর্বটি আসলে উচ্চ শনির। আগের সাড়েসাতি নভেম্বর ২০০৯-এ শুরু হয়ে অক্টোবর ২০১৭-য় শেষ হয়েছিল।
ধাইয়ার দিক থেকে তুলার অষ্টম শনি আসবে শনি বৃষে থাকাকালীন ২০৩০ থেকে ২০৩২-এ এবং চতুর্থ ভাবের ধাইয়া শনি মকরে থাকাকালীন ২০৫০ থেকে ২০৫২-এ। অর্থাৎ এই রাশির পক্ষে আগামী পাঁচ বছর শনির কোনও চাপ নেই, আর ২০৩০-এর অষ্টম শনিই পরের পর্ব। মাঝের এই সময়ে করা বিনিয়োগ ও গড়ে তোলা সুনামই ২০৪০-এর সাড়েসাতির আসল পাথেয়।
| আপনার চন্দ্ররাশি | ♎ তুলা |
|---|---|
| শনির বর্তমান রাশি | মীন — ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে |
| চন্দ্র থেকে শনির ভাব | 6তম ভাব |
| সাড়েসাতির মোট কাল | সাড়ে সাত বছর (আড়াই + আড়াই + আড়াই) |
তিনটি পর্ব, ধাইয়া ও সাধারণ প্রশ্ন — সাড়েসাতির মূল পাতা।
📖 তুলা রাশিতে এর প্রভাব
তুলার অধিপতি শুক্র এবং শুক্র-শনি মিত্র; তার উপর শনি এই রাশিতে উচ্চ। এই দুই কারণে তুলার সাড়েসাতি বারোটি রাশির মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বলে গণ্য। তা পরিশ্রম চায়, কিন্তু সেই পরিশ্রমের মাপা ফলও দেয় — অনেকের ক্ষেত্রে এই পর্বেই চাকরিতে বড় পদ, নিজের জায়গা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠা আসে।
এখনকার ষষ্ঠ শনি ঋণ শোধ করার এবং ঝুলে থাকা আইনি বিষয় মিটিয়ে ফেলার উপযুক্ত সময়। শুক্র অধিপতি বলে তুলার জাতক বিবাদের চেয়ে আপস পছন্দ করেন; কিন্তু ষষ্ঠ শনির সময়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই বেশি লাভজনক হয়।
এই রাশির মনে রাখা উচিত যে সাড়েসাতির ভয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি — কারণ তাদের সাড়েসাতি এখনও দেড় দশক দূরে এবং তার স্বভাবও তুলনায় অনুকূল। তুলা লগ্নের ক্ষেত্রে শনি চতুর্থ-পঞ্চমেশ অর্থাৎ যোগকারক হন; এমন কোষ্ঠীতে শনির প্রতিটি বড় পর্বই উন্নতির, অসুবিধার নয়। উল্টোদিকে মেষ লগ্ন হলে শনি দশম-একাদশেশ হয়েও নীচ হওয়ায় ফল দেরিতে মেলে।
🕉️ তুলা রাশির জন্য প্রতিকার
শুক্র অধিপতি হওয়ায় তুলার প্রতিকার দেবী-উপাসনার। কলকাতার কালীঘাট — একান্ন সতীপীঠের অন্যতম, যেখানে সতীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল বলে বিশ্বাস — এই রাশির জন্য বলা স্থান। আদিগঙ্গার তীরের এই মন্দির থেকেই শহরের নামটি এসেছে বলে ধরা হয়।
শুক্রবারে দেবীদর্শন, সধবাদের সিঁদুর ও শাঁখা-পলা, সাদা ও হালকা গোলাপি বস্ত্র এবং চাল-চিনি-রুপো দান — এগুলি শুক্রের বল বাড়ায়। শনির জন্য শনিবারে লোহা, তিল ও কালো বিউলির ডাল দান বলা হয়।
ব্রতের মধ্যে তুলার জন্য শারদীয়া দুর্গাপুজোর সন্ধিপুজো ও কালীপুজোর রাতের আরাধনা সবচেয়ে নির্দিষ্ট আচার; কালীঘাটে কালীপুজোর রাত ও স্নানযাত্রার ভিড় এই উপাসনার সবচেয়ে বড় প্রকাশ। শনি তুলায় উচ্চ হন বলে এই রাশিকে নীলা প্রায়ই সয়, তবু তা তিন দিন বালিশের নীচে রেখে পরীক্ষা করেই পরা উচিত। আর সবচেয়ে বাস্তব পরামর্শ — তুলার জাতকের সাড়েসাতিতে ‘না’ বলতে শেখা দরকার; শনি সীমা টানতে জানা মানুষকেই পাশে রাখেন।