☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 16 October 2026
🌙

আজকের তিথি — তৃতীয়া

শুক্র, 16 অক্টোবর 2026

Today Tithi 16 October 2026 | Innathe Tithi Bengali | তৃতীয়া Tithi | Bengali Panjika Tithi Today

🌙 আজকের তিথি

🌙
তৃতীয়া
শুভ

তৃতীয় তিথি। সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজের পক্ষে শুভ।

📅 সপ্তাহ: শুক্র ⭐ নক্ষত্র: শ্রবণা 🪄 যোগ: ধ্রুব 📿 করণ: কৌলব

ℹ️ তিথি সম্পর্কে

তিথি পঞ্জিকার পাঁচটি অঙ্গের একটি। এক চান্দ্রমাসে ৩০টি তিথি থাকে — শুক্লপক্ষে ১৫টি, কৃষ্ণপক্ষে ১৫টি।

তিথির প্রকারভেদ

তিথিকে ৫ ভাগে ভাগ করা যায়: নন্দা (১,৬,১১), ভদ্রা (২,৭,১২), জয়া (৩,৮,১৩), রিক্তা (৪,৯,১৪), পূর্ণা (৫,১০,১৫)।

পঞ্জিকায় তিথি জানা মুহূর্ত (শুভ সময়) নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

🧮 তিথি কাকে বলে এবং তা কীভাবে গণনা করা হয়?

সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যেকার কৌণিক দূরত্ব ঠিক বারো ডিগ্রি বাড়তে যে সময় লাগে, তাকেই এক তিথি বলা হয়। অমাবস্যার পর চন্দ্র সূর্য থেকে ক্রমশ সরে যেতে থাকে এবং প্রতি বারো ডিগ্রিতে একটি করে তিথি পূর্ণ হয়। তিনশো ষাট ডিগ্রি সম্পূর্ণ হলে ত্রিশটি তিথি শেষ হয়ে একটি চান্দ্রমাস পূর্ণ হয়।

তিথি মানেই ইংরেজি তারিখ নয়, এ কথা মনে রাখা দরকার। চন্দ্রের কক্ষপথে গতি সমান নয় বলে একটি তিথির স্থায়িত্ব প্রায় ঊনিশ থেকে ছাব্বিশ ঘণ্টা পর্যন্ত বদলাতে পারে। সেই কারণেই একই তিথি কখনও দুটি তারিখ জুড়ে থাকে, আবার কখনও এক দিনেই দুটি তিথি বদলে যায়। সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি চলছে সেটিকেই সেদিনের তিথি হিসেবে পঞ্জিকায় লেখার রীতি বাংলায় প্রচলিত।

চন্দ্রকলা বাড়ার পনেরোটি তিথির গুচ্ছ হল শুক্লপক্ষ, আর কমার পনেরোটির গুচ্ছ কৃষ্ণপক্ষ। শুক্লপক্ষের পঞ্চদশ তিথি পূর্ণিমা এবং কৃষ্ণপক্ষের পঞ্চদশ তিথি অমাবস্যা।

🗓️ পনেরোটি তিথি, তাদের অধিদেবতা ও পার্বণ

প্রতিটি তিথির একজন অধিদেবতা আছেন। ব্রত, পূজা ও উৎসবের দিন নির্ণয়ের সময় এই দেবতা-সম্পর্কই দেখা হয়।

  • প্রতিপদ — অধিদেবতা অগ্নি। পক্ষের প্রথম তিথি; নতুন সংকল্প ও অন্নপ্রাশনের মতো শুভ সূচনার জন্য ব্যবহৃত।
  • দ্বিতীয়া — অধিদেবতা ব্রহ্মা। ব্যবসা, যাত্রা ও চুক্তির পক্ষে অনুকূল; ভাইফোঁটা এই তিথিতেই পড়ে।
  • তৃতীয়া — অধিদেবতা গৌরী। অক্ষয় তৃতীয়ায় বাঙালি ব্যবসায়ীরা হালখাতা শুরু করেন; সোনা ও স্থাবর সম্পত্তি কেনার পক্ষে শুভ।
  • চতুর্থী — অধিদেবতা গণেশ। সংকষ্টী চতুর্থী ও গণেশ চতুর্থীর তিথি; রিক্তা শ্রেণির বলে নতুন কাজের সূচনা এড়ানো হয়।
  • পঞ্চমী — অধিদেবতা নাগ। সরস্বতী পূজা ও নাগপঞ্চমী; বিদ্যারম্ভ ও হাতেখড়ির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত তিথি।
  • ষষ্ঠী — অধিদেবতা কার্তিকেয়। জামাইষষ্ঠী, অশোকষষ্ঠী এবং দুর্গাপূজার বোধনের তিথি।
  • সপ্তমী — অধিদেবতা সূর্য। রথসপ্তমী ও দুর্গাসপ্তমী; স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও যাত্রারম্ভের পক্ষে ভালো।
  • অষ্টমী — অধিদেবতা রুদ্র। জন্মাষ্টমী ও মহাষ্টমীর সন্ধিপূজা; উগ্র তিথি বলে বিবাহে বর্জ্য।
  • নবমী — অধিদেবতা দুর্গা। রামনবমী ও মহানবমী; শস্ত্রপূজার তিথি।
  • দশমী — অধিদেবতা যম। বিজয়া দশমী; যাত্রা ও শুভকর্মের পক্ষে উত্তম বলে গণ্য।
  • একাদশী — অধিদেবতা বিশ্বেদেব। উপবাসের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ তিথি; বছরে চব্বিশটি একাদশী পড়ে।
  • দ্বাদশী — অধিদেবতা বিষ্ণু। একাদশীর উপবাস ভাঙার পারণ এই তিথিতেই করতে হয়।
  • ত্রয়োদশী — অধিদেবতা মদন। প্রদোষ ব্রত, শিবপূজা ও ধনতেরাস।
  • চতুর্দশী — অধিদেবতা শিব। মহাশিবরাত্রি ও ভূত চতুর্দশী; রিক্তা শ্রেণির তিথি।
  • অমাবস্যা বা পূর্ণিমা — পঞ্চদশ তিথি। কৃষ্ণপক্ষে অমাবস্যা, অধিদেবতা পিতৃগণ, মহালয়ার তর্পণ ও কালীপূজা এই তিথির; শুক্লপক্ষে পূর্ণিমা, অধিদেবতা চন্দ্র, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও দোলপূর্ণিমা এই তিথিতেই।

🪔 তিথির বৃদ্ধি ও ক্ষয় — বাংলা পঞ্জিকার রীতি

কোনও তিথি যদি দুটি সূর্যোদয় স্পর্শ করে তবে তাকে বৃদ্ধি তিথি বলা হয়; আর কোনও সূর্যোদয় স্পর্শ না করে এক দিনের মধ্যেই শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেলে তাকে ক্ষয় তিথি বলে। একাদশীর উপবাস, শিবরাত্রি বা মহালয়া ঠিক কোন দিন — এই বিতর্ক এমন পরিস্থিতিতেই তৈরি হয়।

বাংলায় দুটি পঞ্জিকা ধারা পাশাপাশি চলে — সূর্যসিদ্ধান্ত মতে গণনা করা পঞ্জিকা এবং দৃকসিদ্ধান্ত মতে গণনা করা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা। এই দুইয়ের মধ্যে তিথির সময়ে কয়েক দণ্ডের পার্থক্য হতে পারে, ফলে কোনও কোনও বছর দুর্গাপূজা বা লক্ষ্মীপূজার দিন নিয়ে মতভেদ দেখা যায়।

এই পাতার গণনা দৃক পদ্ধতির কাছাকাছি একটি স্থূল হিসাব। বিবাহ, অন্নপ্রাশন বা শ্রাদ্ধের মতো কাজের জন্য স্থানীয় পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

🔗 মুহূর্ত নির্ণয়ে তিথির ভূমিকা

পঞ্চাঙ্গ শব্দের অর্থই পাঁচটি অঙ্গ — বার, তিথি, নক্ষত্র, যোগ ও করণ। এর মধ্যে তিথি সূর্য-চন্দ্রের দূরত্ব মাপে, নক্ষত্র চন্দ্রের অবস্থান দেখায়, যোগ দুজনের দ্রাঘিমাংশের যোগফল মাপে এবং করণ হল তিথির অর্ধেক।

মুহূর্ত ঠিক করার সময় এই পাঁচটিই একসঙ্গে পড়তে হয়। তিথি শুভ হলেও সেদিন বিষ্টি করণ বা বৈধৃতি যোগ পড়লে সেই সময়টি বাদ দিতে হয়। উল্টোদিকে রিক্তা তিথি হলেও উত্তরাষাঢ়ার মতো ধ্রুব নক্ষত্র ও সিদ্ধি যোগ মিলে গেলে নিত্যকর্মে দোষ নেই — এটাই প্রাচীন মুহূর্ত গ্রন্থগুলির অবস্থান।

এর সঙ্গে সেদিনের রাহুকাল, গুলিক কাল ও যমগণ্ডও দেখা দরকার। সারা দিনের বিবরণের জন্য আজকের পঞ্জিকা, চন্দ্রের অবস্থানের জন্য আজকের নক্ষত্র এবং শুভ সময়ের জন্য মুহূর্ত পাতাগুলি দেখুন।