🔜 আগামী ব্রত
- 🙏 একাদশী — 5 নভেম্বর 2026, বৃহস্পতিবার (আজ)
- 🔱 প্রদোষ ব্রত — 7 নভেম্বর 2026, শনিবার (2 দিন পরে)
- 🌑 অমাবস্যা — 9 নভেম্বর 2026, সোমবার (4 দিন পরে)
- 🪔 বিনায়ক চতুর্থী — 13 নভেম্বর 2026, শুক্রবার (8 দিন পরে)
- 🦚 ষষ্ঠী — 15 নভেম্বর 2026, রবিবার (10 দিন পরে)
- ⚔️ অষ্টমী — 18 নভেম্বর 2026, বুধবার (13 দিন পরে)
📅 নভেম্বর 2026 মাসে পড়া ব্রত
| তারিখ | বার | ব্রত | তিথি |
|---|---|---|---|
| 2 নভেম্বর 2026 | সোমবার | ⚔️ অষ্টমী | কৃষ্ণপক্ষ — তিথি 8 |
| 5 নভেম্বর 2026 | বৃহস্পতিবার | 🙏 একাদশী | কৃষ্ণপক্ষ — তিথি 11 |
| 7 নভেম্বর 2026 | শনিবার | 🔱 প্রদোষ ব্রত | কৃষ্ণপক্ষ — তিথি 13 |
| 9 নভেম্বর 2026 | সোমবার | 🌑 অমাবস্যা | কৃষ্ণপক্ষ — তিথি 15 |
| 13 নভেম্বর 2026 | শুক্রবার | 🪔 বিনায়ক চতুর্থী | শুক্লপক্ষ — তিথি 4 |
| 15 নভেম্বর 2026 | রবিবার | 🦚 ষষ্ঠী | শুক্লপক্ষ — তিথি 6 |
| 18 নভেম্বর 2026 | বুধবার | ⚔️ অষ্টমী | শুক্লপক্ষ — তিথি 8 |
| 21 নভেম্বর 2026 | শনিবার | 🙏 একাদশী | শুক্লপক্ষ — তিথি 11 |
| 22 নভেম্বর 2026 | রবিবার | 🔱 প্রদোষ ব্রত | শুক্লপক্ষ — তিথি 13 |
| 24 নভেম্বর 2026 | মঙ্গলবার | 🌕 পূর্ণিমা | শুক্লপক্ষ — তিথি 15 |
| 28 নভেম্বর 2026 | শনিবার | 🐘 সংকষ্টী চতুর্থী | কৃষ্ণপক্ষ — তিথি 4 |
নভেম্বরে কার্তিক মাস চলে। কালীপূজা ও ভাইফোঁটার পর উত্থান একাদশীতে বিবাহের মতো শুভ কাজ আবার শুরু হয়, আর কার্তিক পূর্ণিমায় রাস পূর্ণিমা, প্রদীপ দান ও গঙ্গাস্নানের রীতি আছে। ছট ও স্কন্দ ষষ্ঠীও এই সময়েই আসে।
🔎 প্রতিটি ব্রতের সারা বছরের তারিখ
📖 ব্রত ও তিথি — গোড়ার কথা
ব্রত মানে শুধু না খেয়ে থাকা নয়; এটি একটি দিনের জন্য নিজের মন ও রুটিনকে বেঁধে রাখার অভ্যাস। ভারতীয় পঞ্জিকায় প্রতিটি ব্রত চাঁদের তিথি দিয়ে ঠিক হয়, আর সেজন্যই ইংরেজি তারিখ প্রতি বছর বদলে যায়। এই পাতায় একাদশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা, প্রদোষ, ষষ্ঠী ও সংকষ্টী চতুর্থীর তারিখ চন্দ্র-সূর্যের প্রকৃত অবস্থান থেকে হিসাব করা, কোনো গড় সূত্র থেকে নয়।
তিথি তৈরি হয় চাঁদ আর সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকে: প্রতি ১২ ডিগ্রিতে একটি তিথি সম্পূর্ণ হয়, তাই একটি তিথি কখনো ২০ ঘণ্টার, কখনো ২৬ ঘণ্টার হয়। এ কারণেই কখনো একটি তিথি দুই তারিখে ছড়িয়ে পড়ে, আবার কখনো এক তারিখে দুটি তিথি পড়ে। আমরা সেই দিনটি বেছেছি যেদিন সূর্যোদয়ের পর ওই তিথি শেষ হয়।
যাঁরা সবে শুরু করছেন তাঁদের জন্য আমার পরামর্শ সোজা: আগে একটি ব্রত বেছে নিন — বেশির ভাগ মানুষ একাদশী বা পূর্ণিমা দিয়ে শুরু করেন — এবং তিন মাস নিয়ম করে চালিয়ে যান। তারপর নিজের কোষ্ঠীতে চন্দ্র, বৃহস্পতি ও শনির অবস্থান দেখে ঠিক করুন কোন দেবতা আর কোন ব্রত আপনার পক্ষে সবচেয়ে উপযোগী।
❓ ব্রত ক্যালেন্ডার — সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ব্রতের তিথি কীভাবে ঠিক হয়?
তিথি তৈরি হয় চাঁদ ও সূর্যের দূরত্ব থেকে। প্রতি ১২ ডিগ্রি দূরত্বে একটি তিথি শেষ হয়ে পরেরটি শুরু হয়। একাদশী ১১তম তিথি, পূর্ণিমা ১৫তম, অমাবস্যা ৩০তম, প্রদোষ ১৩তম, ষষ্ঠী ৬ষ্ঠ আর সংকষ্টী কৃষ্ণপক্ষের ৪র্থ (অর্থাৎ ১৯তম)।
একাদশী, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার মধ্যে কী তফাত?
একাদশী বিষ্ণুর তিথি এবং অন্ন বর্জনের দিন। পূর্ণিমা পূর্ণচন্দ্রের দিন — সত্যনারায়ণ পূজা ও চন্দ্রকে অর্ঘ্য দেওয়ার। অমাবস্যা পূর্বপুরুষের স্মরণ, তর্পণ ও দানের দিন।
সব ব্রত কি রাখা জরুরি?
না। ব্রত শ্রদ্ধা ও সামর্থ্যের ব্যাপার। অনেক ব্রত আধখেঁচড়াভাবে করার চেয়ে একটি-দুটি নিয়ম করে রাখা ভালো। অসুস্থ, অন্তঃসত্ত্বা বা ওষুধ খাওয়া মানুষ কঠোর উপবাস করবেন না; ফল ও দুধ নিয়েও ব্রতের মনোভাব পূর্ণ হয়।
বিভিন্ন পঞ্জিকায় তারিখ আলাদা কেন দেখায়?
তিথির সময় শহরের সূর্যোদয়ের ওপর নির্ভর করে, আর বিভিন্ন পঞ্জিকা আলাদা গণনা-পদ্ধতি (নিরয়ন, দৃক বা সূর্যসিদ্ধান্ত) ও আলাদা নিয়ম মানে। তাই মাঝে মাঝে একদিনের তফাত হয়। ব্রতের আগে নিজের মন্দির বা স্থানীয় পঞ্জিকার সঙ্গে একবার মিলিয়ে নিন।
তিথি আর তারিখের মধ্যে কী তফাত?
তারিখ সূর্য অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার দিন, আর তিথি চাঁদ অনুযায়ী তৈরি হয় এবং ২০ থেকে ২৬ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। ব্রত তিথি দিয়ে ঠিক হয়, তাই এর তারিখ প্রতি বছর বদলায়।
ব্রত শুরু করব কীভাবে?
একটি ব্রত বেছে নিন, তিন মাসের সংকল্প করুন এবং সেই দিন শুধু হালকা আহার আর একটু পূজা রাখুন। প্রথম দিন থেকেই কড়া নিয়ম বাঁধলে সাধারণত টেকে না। অভ্যাস হয়ে গেলে ধীরে ধীরে নিয়ম বাড়ান।
ℹ️ গণনা নিরয়ন (লাহিড়ি) পদ্ধতিতে, ভারতীয় প্রমাণ সময়ে। যে দিনের সূর্যোদয়ের (সকাল প্রায় ৬টা) পর তিথি শেষ হয়, সেই দিনটি দেখানো হয়েছে। শহরভেদে কিছু তিথি একদিন আগে-পরে হতে পারে, আর প্রদোষ ও সংকষ্টীতে সন্ধ্যা বা চন্দ্রোদয়ের সময়ের তিথিও দেখা হয় — তাই ব্রতের আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা বা মন্দিরের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে একবার মিলিয়ে নিন।
🔮 আপনার কোষ্ঠীতে কোন ব্রত সবচেয়ে সহায়ক?
জন্মকোষ্ঠী থেকে আপনার রাশি ও দশা দেখে বলা যায় কোন ব্রত আর কোন দেবতা আপনার পক্ষে সবচেয়ে ভরসার।