✨ আজকের যোগ
স্থায়িত্বের যোগ — দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সম্পত্তির কাজে শুভ।
ℹ️ পঞ্জিকা যোগ সম্পর্কে
পঞ্জিকা যোগ হল সূর্য ও চন্দ্রের দ্রাঘিমাংশের যোগফল থেকে নির্ণীত একটি কাল-উপাদান। মোট ২৭টি যোগ রয়েছে।
শুভ যোগ (১৬): প্রীতি, আয়ুষ্মান, সৌভাগ্য, শোভন, সুকর্মা, ধৃতি, ধ্রুব, হর্ষণ, সিদ্ধি, শিব, সিদ্ধ, সাধ্য, শুভ, শুক্ল, ব্রহ্ম ও ঐন্দ্র।
অশুভ যোগ (১১): বিষ্কম্ভ, অতিগণ্ড, শূল, গণ্ড, ব্যাঘাত, বজ্র, ব্যতীপাত, বরীয়ান, পরিঘ ও বৈধৃতি — এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলা ভালো।
দ্রষ্টব্য: এই যোগ গণনা আনুমানিক। নির্ভুল তথ্যের জন্য অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিন।
🧮 পঞ্জিকার যোগ কীভাবে গণনা করা হয়?
কোষ্ঠীর রাজযোগ বা গজকেশরী যোগের সঙ্গে পঞ্জিকার যোগের কোনও সম্পর্ক নেই — এটি গ্রহের সংযোগ নয়, একটি কালমাপ। কোনও নির্দিষ্ট মুহূর্তে সূর্যের নিরয়ন দ্রাঘিমাংশ ও চন্দ্রের নিরয়ন দ্রাঘিমাংশ যোগ করুন এবং সেই যোগফলকে তেরো ডিগ্রি কুড়ি কলা দিয়ে ভাগ করুন। যে ভাগফল পাওয়া যায় সেটিই সেদিনের যোগ। তাই মোট সাতাশটি যোগ।
তিথি গণনা হয় সূর্য-চন্দ্রের পার্থক্য থেকে, আর যোগ গণনা হয় তাদের যোগফল থেকে — এটাই দুইয়ের মূল তফাত। সূর্য ও চন্দ্র দুজনেই চলমান বলে একটি যোগ গড়ে বাইশ থেকে ছাব্বিশ ঘণ্টা স্থায়ী হয়; কখনও এক দিনেই দুটি যোগ বদলে যায়।
✨ সাতাশটি যোগ — ক্রম, অর্থ ও অধিদেবতা
যোগ সবসময় একই ক্রমে আসে; সাতাশতম শেষ হলে আবার প্রথম থেকে শুরু হয়।
- বিষ্কম্ভ — অর্থ অর্গল, অধিদেবতা শিব। শুরুতে বাধা; প্রথম পাঁচ দণ্ড বর্জ্য।
- প্রীতি — অর্থ ভালোবাসা, অধিদেবতা বিষ্ণু। বিবাহ, বন্ধুত্ব ও চুক্তির পক্ষে শ্রেষ্ঠ।
- আয়ুষ্মান — অর্থ দীর্ঘায়ু, অধিদেবতা চন্দ্র। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শুরুর জন্য।
- সৌভাগ্য — অর্থ সৌভাগ্য, অধিদেবতা ব্রহ্মা। সব মাঙ্গলিক কাজের অনুকূল।
- শোভন — অর্থ সৌন্দর্য, অধিদেবতা বৃহস্পতি। শিল্প, সাজসজ্জা ও বস্ত্র কেনার জন্য।
- অতিগণ্ড — অর্থ বড় বাধা, অধিদেবতা চন্দ্র। নতুন কাজ শুরু করা উচিত নয়।
- সুকর্মা — অর্থ সৎকর্ম, অধিদেবতা ইন্দ্র। দান, সেবা ও ধর্মকর্মের জন্য।
- ধৃতি — অর্থ ধৈর্য, অধিদেবতা জল। দৃঢ় সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘ পরিকল্পনার জন্য।
- শূল — অর্থ ধারালো অস্ত্র, অধিদেবতা সর্প। বিবাদ ও আঘাতের সতর্কতা।
- গণ্ড — অর্থ গ্রন্থি বা বাধা, অধিদেবতা অগ্নি। শুভকর্মে বর্জ্য।
- বৃদ্ধি — অর্থ বৃদ্ধি, অধিদেবতা সূর্য। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের জন্য।
- ধ্রুব — অর্থ স্থির, অধিদেবতা পৃথিবী। সম্পত্তি, ভিত্তিস্থাপন ও প্রতিষ্ঠার জন্য।
- ব্যাঘাত — অর্থ আঘাত, অধিদেবতা বায়ু। একা যাত্রা ও বিবাদ এড়ানো ভালো।
- হর্ষণ — অর্থ আনন্দ, অধিদেবতা ভগ। উৎসব, অনুষ্ঠান ও শুভ সংবাদের জন্য।
- বজ্র — অর্থ কঠিন, অধিদেবতা বরুণ। জেদ ও দুর্ঘটনার সতর্কতা।
- সিদ্ধি — অর্থ সাফল্য, অধিদেবতা গণেশ। সব নতুন সূচনার পক্ষে সর্বোত্তম।
- ব্যতীপাত — অর্থ পতন, অধিদেবতা রুদ্র। সবচেয়ে বর্জ্য যোগগুলির একটি।
- বরীয়ান — অর্থ শ্রেষ্ঠ, অধিদেবতা কুবের। আরাম ও সুখ সংক্রান্ত কাজের জন্য।
- পরিঘ — অর্থ খিল, অধিদেবতা বিশ্বকর্মা। বাধার ইঙ্গিত; নতুন কাজ নয়।
- শিব — অর্থ মঙ্গল, অধিদেবতা মিত্র। আধ্যাত্মিক সাধনা ও শিবপূজার জন্য।
- সিদ্ধ — অর্থ সম্পন্ন, অধিদেবতা কার্তিকেয়। গবেষণা ও চিকিৎসাবিদ্যার জন্য।
- সাধ্য — অর্থ সাধনযোগ্য, অধিদেবতা সাবিত্রী। পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের জন্য।
- শুভ — অর্থ মঙ্গলকর, অধিদেবতা লক্ষ্মী। সব শুভকর্মের উপযুক্ত।
- শুক্ল — অর্থ শুভ্র বা শুদ্ধ, অধিদেবতা পার্বতী। শুদ্ধিকরণ ও শিক্ষার জন্য।
- ব্রহ্ম — অর্থ জ্ঞান, অধিদেবতা অশ্বিনীকুমার। অধ্যয়ন ও নতুন শেখার জন্য।
- ঐন্দ্র — অর্থ ইন্দ্র সম্পর্কিত, অধিদেবতা পিতৃগণ। নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের জন্য।
- বৈধৃতি — অর্থ বিচ্যুতি, অধিদেবতা দিতি। শুভকর্মে সম্পূর্ণ বর্জ্য।
🪔 মুহূর্তে যোগের ভূমিকা
মুহূর্ত নির্ণয়ে প্রথমে নক্ষত্র ও তিথি দেখা হয়, তারপর যোগ দিয়ে তা নিশ্চিত করা হয়। সাতাশটির মধ্যে নয়টি যোগকে সাধারণভাবে অশুভ ধরা হয়; বাকিগুলি শুভ বা মধ্যম। অমৃতসিদ্ধি যোগ ও সর্বার্থসিদ্ধি যোগ হল বার ও নক্ষত্র মিললে তৈরি হওয়া আলাদা ধরনের যোগ; এই সাতাশটি পঞ্জিকা যোগের সঙ্গে সেগুলিকে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
ব্যতীপাত ও বৈধৃতি পড়া দিনগুলি বাংলা পঞ্জিকায় আলাদা করে চিহ্নিত থাকে। এই দিনগুলি পিতৃতর্পণ ও দানের পক্ষে বিশেষ বলে গণ্য হয় — শুভকর্মে যা বর্জ্য তা পুণ্যকর্মে অনুকূল হয়ে ওঠার এই বৈপরীত্য পঞ্জিকা ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
সূচনা: এই পাতার যোগ গণনা স্থূল ধরনের। বিবাহ বা গৃহপ্রবেশের মতো বড় অনুষ্ঠানের জন্য স্থানীয় পঞ্জিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিন অথবা জ্যোতিষীর পরামর্শ নিন। আরও তথ্যের জন্য আজকের পঞ্জিকা, আজকের করণ ও যোগসমূহ পাতাগুলি দেখুন।