☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 16 October 2026

🪐 নবগ্রহ — নয়টি গ্রহের সম্পূর্ণ পরিচয়

কারকত্ব, স্বরাশি, উচ্চ-নীচ অবস্থা, মহাদশা ও প্রতিকার — প্রতিটি গ্রহের আলাদা পাতা

Nabagraha in Bengali | Nine Planets of Vedic Astrology

🌌 নয়টি গ্রহ — একটি বেছে নিন

গ্রহকারকত্বস্বরাশিউচ্চমহাদশা
☀️ সূর্য আত্মা, পিতা, কর্তৃত্ব, স্বাস্থ্য সিংহ মেষ (১০°) ৬ বছর
🌙 চন্দ্র মন, মা, অনুভূতি, স্মৃতি কর্কট বৃষ (৩°) ১০ বছর
🔴 মঙ্গল সাহস, ভাইবোন, ভূমি, রক্ত মেষ, বৃশ্চিক মকর (২৮°) ৭ বছর
💚 বুধ বুদ্ধি, বাক্য, ব্যবসা, বিদ্যা মিথুন, কন্যা কন্যা (১৫°) ১৭ বছর
🟡 বৃহস্পতি জ্ঞান, ধর্ম, সন্তান, সম্পদ ধনু, মীন কর্কট (৫°) ১৬ বছর
🌸 শুক্র প্রেম, বিবাহ, শিল্পকলা, যানবাহন বৃষ, তুলা মীন (২৭°) ২০ বছর
⚫ শনি কর্ম, পরিশ্রম, ন্যায়, আয়ু মকর, কুম্ভ তুলা (২০°) ১৯ বছর
🌑 রাহু মায়া, আকস্মিক পরিবর্তন, বিদেশযোগ ছায়াগ্রহ — স্বরাশি নেই বৃষ / মিথুন ১৮ বছর
🔮 কেতু মোক্ষ, আধ্যাত্মিকতা, পূর্বসংস্কার ছায়াগ্রহ — স্বরাশি নেই বৃশ্চিক / ধনু ৭ বছর

📖 নবগ্রহ কাকে বলে?

ভারতীয় জ্যোতিষে নবগ্রহ বলতে বোঝায় সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু — এই নয়টি। এর মধ্যে সূর্য একটি তারা এবং চন্দ্র উপগ্রহ, আর রাহু ও কেতু আসলে গোলক নন, চন্দ্রের কক্ষপথ ও সূর্যের আপাত পথের ছেদবিন্দু — তাই তাঁদের ছায়াগ্রহ বলা হয়। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইউরেনাস, নেপচুন ও প্লুটো পারম্পরিক ফলজ্যোতিষে ব্যবহৃত হয় না।

প্রতিটি গ্রহ কিছু বিষয়ের কারক — সূর্য আত্মার, চন্দ্র মনের, মঙ্গল সাহসের, বুধ বুদ্ধির, বৃহস্পতি জ্ঞানের, শুক্র সুখের, শনি কর্মের, রাহু মায়ার এবং কেতু মোক্ষের। কোষ্ঠী পড়ার সময় কোনও গ্রহকে একা দেখা হয় না; তিনি কোন রাশিতে আছেন, কোন ভাবের অধিপতি, তাঁর উপর কার দৃষ্টি আছে এবং তিনি অস্তগত বা বক্রী কি না — সবটা একসঙ্গে বিচার করতে হয়।

গ্রহের বল নির্ধারণের নির্দিষ্ট মাপকাঠি আছে। উচ্চ রাশিতে গ্রহ সবচেয়ে বলবান, নীচ রাশিতে সবচেয়ে দুর্বল এবং নিজের রাশিতে স্থিতিশীল বলে গণ্য। এ ছাড়া দিগ্বল — অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভাবে পাওয়া দিকবল — আলাদা বিচার: সূর্য ও মঙ্গল দশম ভাবে, চন্দ্র ও শুক্র চতুর্থ ভাবে, বুধ ও বৃহস্পতি লগ্নে এবং শনি সপ্তম ভাবে দিগ্বল পান।

দৃষ্টির নিয়মও গ্রহভেদে আলাদা। সব গ্রহ সপ্তম স্থানে দৃষ্টি দেন; এ ছাড়া মঙ্গলের চতুর্থ ও অষ্টম, বৃহস্পতির পঞ্চম ও নবম এবং শনির তৃতীয় ও দশম বিশেষ দৃষ্টি আছে। রাহু-কেতুকে বৃহস্পতির মতো পঞ্চম, সপ্তম ও নবম দৃষ্টি দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

কালগণনার জন্য বিংশোত্তরী মহাদশা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। নয়টি গ্রহের দশার যোগফল ১২০ বছর — কেতু ৭, শুক্র ২০, সূর্য ৬, চন্দ্র ১০, মঙ্গল ৭, রাহু ১৮, বৃহস্পতি ১৬, শনি ১৯ এবং বুধ ১৭। জন্মকালীন চন্দ্র কোন নক্ষত্রে ছিলেন তার উপর নির্ভর করে প্রথম দশা কোনটি তা ঠিক হয়। জীবনের বড় পর্বগুলি এই দশাক্রম থেকেই বলা হয়।

প্রতিকারের ক্ষেত্রে বাংলার নিজস্ব চেহারা আছে — শনির জন্য অশ্বত্থতলার থান, চন্দ্রের জন্য জল্পেশ, বৃহস্পতির জন্য বেলুড় মঠ, শুক্রের জন্য দক্ষিণেশ্বর এবং রাহুর জন্য মনসাপুজো। সূর্য ও কেতুর ক্ষেত্রে বাংলায় বড় মন্দিরভিত্তিক ধারা নেই, উপাসনা ঘরোয়া ব্রতেই সীমাবদ্ধ — সেটিও এই পাতাগুলিতে স্পষ্ট করে বলা আছে। তবে একটি সতর্কবাণী সবসময় দেওয়া হয়: রত্ন প্রতিকারের তালিকায় সবার শেষে আসে। মন্ত্রজপ, দান ও আচরণের পরিবর্তন — এই তিনটি ধাপ না পেরিয়ে এবং পুরো কোষ্ঠী না দেখে কোনও রত্ন ধারণ করা উচিত নয়।

💡 নীচের নয়টি পাতায় প্রতিটি গ্রহের কারকত্ব, আধিপত্য, উচ্চ-নীচ অবস্থা, দৃষ্টি, মহাদশার স্বরূপ এবং সেই গ্রহের বাংলার উপাসনা-পরম্পরা বিস্তারিত দেওয়া আছে।