🪐 নয়টি গ্রহ — একটি বেছে নিন
🔴 মঙ্গল — কারকত্ব
মঙ্গল সাহস, শক্তি ও ভূমির কারক। ভাইবোন — বিশেষত ছোটরা, স্থাবর সম্পত্তি, রক্ত, অস্ত্র, অস্ত্রোপচার এবং অগ্নিতত্ত্ব সংক্রান্ত সব বিষয় তাঁর অধিকারে। বলবান মঙ্গল সংকটে না-দমা মন দেন; দুর্বল মঙ্গল সেই একই তেজকে রাগ ও তাড়াহুড়োয় বদলে দেন।
মঙ্গলকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় মঙ্গল দোষের। লগ্নকোষ্ঠী বা চন্দ্রকোষ্ঠীতে মঙ্গল প্রথম, দ্বিতীয়, চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম বা দ্বাদশ ভাবে থাকলে এই দোষ ধরা হয়। তবে দুই কোষ্ঠীতেই সমান হলে পরিহার হয়, আর মঙ্গল স্বগৃহী বা উচ্চ হলে দোষের তীব্রতা আপনিই কমে — এই শর্তটি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে।
মঙ্গলও দশম ভাবে দিগ্বল পান; সেখানকার মঙ্গল প্রতিরক্ষা, পুলিশ, ক্রীড়া ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে উজ্জ্বল করে তোলেন। তৃতীয় ও ষষ্ঠ ভাবে তিনি সবচেয়ে উপযোগী — সেখানে তিনি ভয় কাটান এবং প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখেন। তবু ‘কারকো ভাবো নাশায়’ অনুসারে মঙ্গল ভাইবোনের কারক হয়েও তৃতীয় ভাবে বসলে ছোট ভাইবোনের সুখে ঘাটতি আসে বলে মানা হয়।
🏠 মঙ্গল — আধিপত্য, উচ্চ-নীচ ও দৃষ্টি
মঙ্গল মেষ ও বৃশ্চিক — দুটি রাশির অধিপতি। মকর রাশিতে আঠাশ ডিগ্রিতে তিনি উচ্চ হন এবং কর্কটে ওই একই ডিগ্রিতে নীচ। মেষ রাশির শূন্য থেকে বারো ডিগ্রি তাঁর মূলত্রিকোণ।
মঙ্গলের দৃষ্টি অন্য গ্রহের চেয়ে আলাদা ও বেশি — সপ্তমের সঙ্গে তিনি চতুর্থ ও অষ্টম বিশেষ দৃষ্টি পান। অষ্টম দৃষ্টিটি তাঁর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বলে গণ্য। মৃগশিরা, চিত্রা ও ধনিষ্ঠা তাঁর নক্ষত্র। মঙ্গল প্রায় পঁয়তাল্লিশ দিনে এক রাশি পার করেন, কিন্তু প্রতি দু’বছরে প্রায় আড়াই মাস বক্রী হন এবং তখন এক রাশিতে ছয়-সাত মাসও থাকতে পারেন। মঙ্গল-শনি যুতি সংঘাত দেখায়, আর মঙ্গল-রাহু যুতিকে অঙ্গারক যোগ বলা হয়।
| 🏠 স্বরাশি | মেষ, বৃশ্চিক | 📈 উচ্চ রাশি | মকর (২৮°) |
|---|---|---|---|
| 📉 নীচ রাশি | কর্কট (২৮°) | 🎯 মূলত্রিকোণ | মেষ ০°–১২° |
| 👁️ দৃষ্টি | চতুর্থ, সপ্তম, অষ্টম | 💎 রত্ন | প্রবাল (Red Coral) |
| 📅 বার | মঙ্গলবার | 🎨 রং | লাল |
| ⭐ নক্ষত্র | মৃগশিরা, চিত্রা, ধনিষ্ঠা | ⏳ মহাদশা | ৭ বছর |
| 🕉️ দেবতা | মঙ্গলচণ্ডী / কার্তিক | ||
| 🙏 মন্ত্র | ॐ অং অঙ্গারকায় নমঃ | ||
⏳ মঙ্গল — মহাদশার স্বরূপ
মঙ্গলের মহাদশা সাত বছরের এবং তা চন্দ্রের দশ বছরের পরে আসে। চন্দ্রের দশা মনকে আগলে রাখে, মঙ্গলের দশা সেই একই মানুষকে ময়দানে নামিয়ে দেয় — এই পার্থক্য বিশেষত তিরিশের কোঠায় এই দশা পাওয়া মানুষের কাছে স্পষ্ট।
এই সাত বছরে জমি-জায়গা কেনা বা বেচা, নির্মাণকাজ, গাড়ি কেনা, ভাইবোন সংক্রান্ত লেনদেন এবং প্রতিযোগিতায় জেতা — এই বিষয়গুলি সামনে আসে। প্রতিরক্ষা, পুলিশ, ক্রীড়া, ইঞ্জিনিয়ারিং ও শল্যচিকিৎসার ক্ষেত্রে এই দশা বিশেষ ফলদায়ী। অন্যদিকে মঙ্গল অশুভ হলে এই সময়েই দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, রক্তঘটিত অভিযোগ, মামলা এবং ভাইবোনের সঙ্গে দূরত্ব দেখা যায়। মঙ্গল-রাহু অন্তর্দশা এই সাত বছরের সবচেয়ে সতর্ক থাকার পর্ব।
📊 মঙ্গল — বল ও দুর্বলতা
✅ বলবান হলে
সাহস, শারীরিক সক্ষমতা, ভূসম্পত্তি এবং প্রতিরক্ষা, ক্রীড়া ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে সাফল্য।
⚠️ দুর্বল হলে
রাগ, তাড়াহুড়ো, দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ভাইবোনের সঙ্গে বিবাদ এবং রক্তঘটিত সমস্যা।
🕉️ মঙ্গল — উপাসনা ও প্রতিকার
বাংলায় মঙ্গলের উপাসনা মঙ্গলচণ্ডীর মাধ্যমে হয়, আর এই গ্রহের জন্য বলা হয় বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির — বর্ধমান শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, যাঁর নামেই শহরের পরিচয়। মহারাজা কীর্তিচাঁদের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে মঙ্গলবারের পুজো ও নবরাত্রির আয়োজন বিশেষ।
মঙ্গলবারে লাল জবা ও লাল বস্ত্র নিবেদন, মুসুর ডাল, তামার পাত্র ও লাল কাপড় দান এবং সম্ভব হলে রক্তদান — এগুলি মঙ্গলশান্তির প্রচলিত প্রতিকার। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবারের মঙ্গলচণ্ডীর ব্রত বাংলার ঘরোয়া আচারগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো একটি। বিবাহের আগে কুজদোষ শান্তি করানোর রীতিও বহু পরিবারে আছে। প্রবাল মঙ্গলের রত্ন — মেষ ও বৃশ্চিক লগ্নে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সয়।
📿 মঙ্গল মন্ত্র
ॐ অং অঙ্গারকায় নমঃ
১০৮ বার জপ — মঙ্গলবার বিশেষ ফলদায়ী