❓ রাশি বলতে কী বোঝায়?
বাংলায় কেউ যখন জিজ্ঞাসা করেন ‘আপনার রাশি কী?’, তখন তিনি সূর্যরাশির কথা বলছেন না — বলছেন চন্দ্ররাশির কথা। জন্মের মুহূর্তে চন্দ্র আকাশের যে ত্রিশ ডিগ্রির অংশে অবস্থান করছিলেন, সেটিই জাতকের জন্মরাশি। দশা, গোচর, সাড়েসাতি, চন্দ্রাষ্টম — বৈদিক ফলাদেশের প্রায় সবটাই এই চন্দ্ররাশির উপরে দাঁড়িয়ে আছে।
সম্পূর্ণ ভচক্র ৩৬০ ডিগ্রির। তাকে বারো ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ ৩০ ডিগ্রির — এই বারোটিই রাশি। সেই একই ভচক্রকে সাতাশ ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগ ১৩ ডিগ্রি ২০ কলার — এগুলিই সাতাশ নক্ষত্র। প্রতিটি নক্ষত্রের আবার চারটি করে পাদ, অর্থাৎ মোট ১০৮ পাদ। ঠিক সোয়া দুটি নক্ষত্র মিলে একটি রাশি তৈরি হয়, তাই কয়েকটি নক্ষত্র দুই রাশিতে ভাগ হয়ে যায়।
নিচের তালিকায় নিজের জন্মনক্ষত্র ও পাদ খুঁজে নিন — পাশেই রাশি পেয়ে যাবেন। নক্ষত্র জানা না থাকলে বিনামূল্যে কোষ্ঠী তৈরি করুন; সেখানে নক্ষত্র, পাদ ও রাশি তিনটিই একসঙ্গে দেখা যাবে।
📋 নক্ষত্র ও পাদ অনুযায়ী রাশি
| নক্ষত্র | Nakshatra | পাদ | রাশি |
|---|---|---|---|
| অশ্বিনী | Ashwini | ১-৪ | মেষ |
| ভরণী | Bharani | ১-৪ | মেষ |
| কৃত্তিকা | Krittika | ১ | মেষ |
| কৃত্তিকা | Krittika | ২-৪ | বৃষ |
| রোহিণী | Rohini | ১-৪ | বৃষ |
| মৃগশিরা | Mrigashira | ১-২ | বৃষ |
| মৃগশিরা | Mrigashira | ৩-৪ | মিথুন |
| আর্দ্রা | Ardra | ১-৪ | মিথুন |
| পুনর্বসু | Punarvasu | ১-৩ | মিথুন |
| পুনর্বসু | Punarvasu | ৪ | কর্কট |
| পুষ্যা | Pushya | ১-৪ | কর্কট |
| অশ্লেষা | Ashlesha | ১-৪ | কর্কট |
| মঘা | Magha | ১-৪ | সিংহ |
| পূর্বফাল্গুনী | Purva Phalguni | ১-৪ | সিংহ |
| উত্তরফাল্গুনী | Uttara Phalguni | ১ | সিংহ |
| উত্তরফাল্গুনী | Uttara Phalguni | ২-৪ | কন্যা |
| হস্তা | Hasta | ১-৪ | কন্যা |
| চিত্রা | Chitra | ১-২ | কন্যা |
| চিত্রা | Chitra | ৩-৪ | তুলা |
| স্বাতী | Swati | ১-৪ | তুলা |
| বিশাখা | Vishakha | ১-৩ | তুলা |
| বিশাখা | Vishakha | ৪ | বৃশ্চিক |
| অনুরাধা | Anuradha | ১-৪ | বৃশ্চিক |
| জ্যেষ্ঠা | Jyeshtha | ১-৪ | বৃশ্চিক |
| মূলা | Mula | ১-৪ | ধনু |
| পূর্বাষাঢ়া | Purva Ashadha | ১-৪ | ধনু |
| উত্তরাষাঢ়া | Uttara Ashadha | ১ | ধনু |
| উত্তরাষাঢ়া | Uttara Ashadha | ২-৪ | মকর |
| শ্রবণা | Shravana | ১-৪ | মকর |
| ধনিষ্ঠা | Dhanishta | ১-২ | মকর |
| ধনিষ্ঠা | Dhanishta | ৩-৪ | কুম্ভ |
| শতভিষা | Shatabhisha | ১-৪ | কুম্ভ |
| পূর্বভাদ্রপদ | Purva Bhadrapada | ১-৩ | কুম্ভ |
| পূর্বভাদ্রপদ | Purva Bhadrapada | ৪ | মীন |
| উত্তরভাদ্রপদ | Uttara Bhadrapada | ১-৪ | মীন |
| রেবতী | Revati | ১-৪ | মীন |
♈ বারো রাশি ও তাদের অধিপতি
📖 চন্দ্ররাশি, সূর্যরাশি ও লগ্ন — তিনের পার্থক্য
অনেক পাঠকই বিভ্রান্ত হন — সংবাদপত্রের রাশিফলে যে রাশির কথা বলা হয় আর ঠাকুরমশাই যে রাশির কথা বলেন, দুটি এক কি না। বিভ্রান্তির কারণ সহজ: একই কোষ্ঠীতে তিন ধরনের রাশি থাকে এবং তিনটির কাজ আলাদা।
চন্দ্ররাশি হল জন্মমুহূর্তে চন্দ্র যে রাশিতে ছিলেন সেটি। ভারতীয় পদ্ধতিতে এটিই প্রধান রাশি। মন, আবেগ, স্বভাব এবং দৈনন্দিন ফলাফল — সবই এর ভিত্তিতে বিচার করা হয়। শনির সাড়েসাতি কোন রাশিতে চলছে, তাও নির্ধারিত হয় চন্দ্ররাশি থেকেই। আমাদের আজকের রাশিফল ও মাসিক রাশিফল দুটিই চন্দ্ররাশি-ভিত্তিক।
সূর্যরাশি হল জন্মমুহূর্তে সূর্য যে রাশিতে ছিলেন সেটি। পাশ্চাত্য জ্যোতিষ এর উপরেই চলে। এখানে একটি জরুরি কথা — বৈদিক পদ্ধতি নিরয়ন, পাশ্চাত্য পদ্ধতি সায়ন। অয়নাংশের প্রায় ২৪ ডিগ্রির ব্যবধানের কারণে একই ব্যক্তির সূর্যরাশি দুই পদ্ধতিতে আলাদা আসতেই পারে; এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
লগ্ন হল জন্মমুহূর্তে পূর্ব দিগন্তে যে রাশি উদিত হচ্ছিল সেটি। শরীর, আয়ু, ব্যক্তিত্ব ও জীবনের সামগ্রিক গতি লগ্ন থেকে বিচার্য। লগ্ন প্রতি দুই ঘণ্টায় বদলায়, তাই এর জন্য জন্মসময় নির্ভুল হওয়া চাই। যমজ ভাইবোনের রাশি এক হলেও লগ্ন আলাদা হতে পারে — সেই কারণেই তাঁদের জীবনরেখা ভিন্ন খাতে বয়ে যায়।
বাংলায় নামকরণের পুরোনো রীতি ঠিক এই গণিতের উপরেই দাঁড়িয়ে। জন্মের পরে পুরোহিত পঞ্জিকা দেখে নক্ষত্র ও পাদ নির্ণয় করেন, তার থেকে নামের প্রথম অক্ষর ঠিক হয়, এবং সেই অক্ষর দিয়ে ‘রাশিনাম’ রাখা হয়। দৈনন্দিন ডাকনাম যাই হোক, বিবাহের সংকল্প, শ্রাদ্ধ কিংবা পূজার অনুষ্ঠানে আজও সেই রাশিনামই উচ্চারিত হয়। বাংলা সনের হিসেবে ছাপা পঞ্জিকায় প্রতিটি তিথির পাশে সেদিনের নক্ষত্র লেখা থাকে, তাই জন্মতারিখ জানা থাকলে পরেও নক্ষত্র বের করে নেওয়া যায়। নবদ্বীপ ও ভাটপাড়ার পণ্ডিতসমাজ শতাব্দী ধরে এই গণনার ধারাটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
একটি বাস্তব পরামর্শ — জন্মসময় আন্দাজে বললে রাশি বদলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, কারণ চন্দ্র সোয়া দুই দিনে একটি রাশি অতিক্রম করেন এবং একটি নক্ষত্র টেনেটুনে একদিন স্থায়ী হয়। জন্মদিনে যদি চন্দ্র রাশি পরিবর্তন করে থাকেন, তবে সকালে জন্মানো আর সন্ধ্যায় জন্মানো শিশুর রাশি আলাদা হবে। তাই হাসপাতালের নথি বা জন্মসনদে লেখা সময়টিকেই প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত।
❔ সাধারণ কিছু প্রশ্ন
নামের প্রথম অক্ষর থেকে কি রাশি বোঝা যায়?
রাশিনাম যদি নিয়ম মেনে রাখা হয়ে থাকে, তবেই। ডাকনাম বা পোশাকি নাম সাধারণত অভিভাবকের পছন্দে রাখা হয়, তাই তার থেকে বের করা রাশি নির্ভরযোগ্য নয়। জন্মনক্ষত্রই একমাত্র সঠিক ভিত্তি।
নক্ষত্রের পাদ কীভাবে জানব?
পাদ নির্ণীত হয় চন্দ্রের সূক্ষ্ম ডিগ্রি থেকে। বিনামূল্যে কোষ্ঠী তৈরি করলে নক্ষত্রের সঙ্গে পাদও দেখানো হয়।
রাশি কি কখনও বদলায়?
না। জন্মরাশি সারা জীবন এক থাকে। বদলায় কেবল গোচরের গ্রহেরা — তার প্রভাব শনি সংক্রমণ ও গুরু সংক্রমণ পাতায় দেখা যাবে।
বিবাহ মিলনে কোন রাশি দেখা হয়?
গণ, নাড়ি, ভকূট সহ সমস্ত মিলনের হিসাব চন্দ্ররাশি ও জন্মনক্ষত্রের ভিত্তিতেই হয়। বিস্তারিত দেখুন বিবাহ মিলন পাতায়।