⭐ আজকের নক্ষত্র
শ্রবণা — চন্দ্র অধিপতি। বিষ্ণু নক্ষত্র। শিক্ষা ও ব্যবসার পক্ষে অত্যন্ত ভালো।
ℹ️ নক্ষত্র সম্পর্কে
জ্যোতিষে ২৭টি নক্ষত্র রয়েছে। চন্দ্র প্রতিদিন এক নক্ষত্র থেকে পরবর্তী নক্ষত্রে সরে যায়। আজকের নক্ষত্র বলতে চন্দ্র এখন যে নক্ষত্রে আছে তা বোঝায়।
কারও জন্মনক্ষত্র হল জন্মের সময় চন্দ্র যে নক্ষত্রে ছিল সেটি। আজকের নক্ষত্র সেদিনের মুহূর্ত ও ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
বিশদ নক্ষত্র ফলের জন্য: নক্ষত্র ফল →
🧮 নক্ষত্র নামের মাপকাঠি — চন্দ্রের দিনের ঘর
রাশিচক্রের তিনশো ষাট ডিগ্রিকে সাতাশটি সমান ভাগে ভাগ করলে প্রতিটি ভাগে পড়ে তেরো ডিগ্রি কুড়ি কলা। এটিই এক নক্ষত্র। চন্দ্র দিনে প্রায় তেরো ডিগ্রি চলে বলে মোটামুটি এক দিনেই একটি নক্ষত্র অতিক্রম করে। তিথি সূর্য ও চন্দ্র দুজনকে একসঙ্গে দেখে, আর নক্ষত্র কেবল চন্দ্রের অবস্থান মাপে — এটাই দুইয়ের মূল পার্থক্য।
প্রতিটি নক্ষত্রকে আবার চারটি পাদে ভাগ করা হয়েছে; এক পাদ মানে তিন ডিগ্রি কুড়ি কলা। সাতাশ নক্ষত্রের একশো আটটি পাদ থেকেই নবাংশ চক্র তৈরি হয়। শিশুর নামাক্ষর, জন্মরাশি ও দশাবল সবই জন্মের সময় চন্দ্র কোন নক্ষত্রের কোন পাদে ছিল তার উপর নির্ভর করে।
⭐ সাতাশটি নক্ষত্র — প্রতীক, দেবতা ও ব্যবহার
- অশ্বিনী — প্রতীক ঘোড়ার মাথা, দেবতা অশ্বিনীকুমার। ওষুধ, যাত্রা ও দ্রুত শেষ হওয়া কাজের জন্য।
- ভরণী — প্রতীক যোনি, দেবতা যম। কঠোর সিদ্ধান্তের জন্য; মাঙ্গলিক কাজে বর্জ্য।
- কৃত্তিকা — প্রতীক অগ্নিশিখা, দেবতা অগ্নি। অগ্নি সংক্রান্ত কাজ, শুদ্ধিকরণ ও ছেদনের জন্য।
- রোহিণী — প্রতীক গোরুর গাড়ি, দেবতা ব্রহ্মা। গৃহপ্রবেশ, বীজ বপন ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পক্ষে শ্রেষ্ঠ।
- মৃগশিরা — প্রতীক হরিণের মাথা, দেবতা চন্দ্র। অনুসন্ধান, গবেষণা ও ছোট যাত্রার জন্য।
- আর্দ্রা — প্রতীক অশ্রুবিন্দু, দেবতা রুদ্র। পুরনো ভেঙে নতুন গড়ার কাজে।
- পুনর্বসু — প্রতীক তূণ, দেবতা অদিতি। পুনরায় শুরু, ঘরে ফেরা ও পাঠের জন্য।
- পুষ্যা — প্রতীক গাভীর স্তন, দেবতা বৃহস্পতি। সব শুভকর্মে শ্রেষ্ঠ; কেবল বিবাহে বর্জ্য।
- অশ্লেষা — প্রতীক কুণ্ডলী পাকানো সাপ, দেবতা নাগ। মন্ত্রসাধনা ও গোপন কাজের জন্য।
- মঘা — প্রতীক সিংহাসন, দেবতা পিতৃগণ। শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পূর্বপুরুষ স্মরণের জন্য।
- পূর্বফাল্গুনী — প্রতীক খাটের সামনের অংশ, দেবতা ভগ। বিশ্রাম, শিল্পকলা ও প্রেম সংক্রান্ত কাজে।
- উত্তরফাল্গুনী — প্রতীক খাটের পিছনের অংশ, দেবতা অর্যমা। বিবাহ, চুক্তি ও স্থায়ী কাজের জন্য।
- হস্তা — প্রতীক হাতের তালু, দেবতা সবিতা। হস্তশিল্প, ব্যবসা ও নতুন শেখার জন্য।
- চিত্রা — প্রতীক মুক্তা, দেবতা ত্বষ্টা। নকশা, অলঙ্কার ও নির্মাণকাজে।
- স্বাতী — প্রতীক হাওয়ায় দোলা কচি ডাল, দেবতা বায়ু। ব্যবসা, যাত্রা ও স্বাধীন উদ্যোগের জন্য।
- বিশাখা — প্রতীক তোরণ, দেবতা ইন্দ্রাগ্নি। লক্ষ্যপূরণ ও প্রতিযোগিতার জন্য।
- অনুরাধা — প্রতীক পদ্ম, দেবতা মিত্র। বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও সংগঠনের জন্য।
- জ্যেষ্ঠা — প্রতীক ছত্র, দেবতা ইন্দ্র। কর্তৃত্ব ও রক্ষা সংক্রান্ত কাজে; গণ্ডান্ত সন্ধিতে সতর্কতা প্রয়োজন।
- মূলা — প্রতীক শিকড়ের গোছা, দেবতা নিঋতি। মূল ওষধি ও গভীর গবেষণার জন্য।
- পূর্বাষাঢ়া — প্রতীক পাখা, দেবতা জলদেবতা। জল সংক্রান্ত কাজ ও বিতর্কে জয়ের জন্য।
- উত্তরাষাঢ়া — প্রতীক হাতির দাঁত, দেবতা বিশ্বেদেব। দীর্ঘস্থায়ী জয় ও প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য।
- শ্রবণা — প্রতীক তিনটি পদচিহ্ন, দেবতা বিষ্ণু। অধ্যয়ন, উপনয়ন ও শাস্ত্রশ্রবণের জন্য।
- ধনিষ্ঠা — প্রতীক মৃদঙ্গ, দেবতা অষ্টবসু। সঙ্গীত, সম্পদ ও জনসেবামূলক কাজে।
- শতভিষা — প্রতীক বৃত্ত, দেবতা বরুণ। চিকিৎসা, গুপ্তবিদ্যা ও আবিষ্কারের জন্য।
- পূর্বভাদ্রপদ — প্রতীক খাটের সামনের পায়া, দেবতা অজ একপাদ। তপস্যা ও কঠোর সাধনার জন্য।
- উত্তরভাদ্রপদ — প্রতীক খাটের পিছনের পায়া, দেবতা অহির্বুধ্ন্য। শান্তি, দান ও গম্ভীর কাজের জন্য।
- রেবতী — প্রতীক মাছ, দেবতা পূষা। যাত্রারম্ভ, ব্যবসা ও কাজ শেষ করার জন্য।
🧭 নক্ষত্রের সাতটি কর্মশ্রেণি
মুহূর্তশাস্ত্রে নক্ষত্রগুলিকে কাজের স্বভাব অনুসারে সাতটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। কোন কাজ কোন দিনে শুরু করা উচিত তা এই বিভাজন থেকেই স্থির হয়।
- ধ্রুব বা স্থির — রোহিণী, উত্তরফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া, উত্তরভাদ্রপদ। দীর্ঘদিন টিকবে এমন কাজ: গৃহপ্রবেশ, ভিত্তিস্থাপন, বৃক্ষরোপণ।
- চর বা চঞ্চল — স্বাতী, পুনর্বসু, শ্রবণা, ধনিষ্ঠা, শতভিষা। যাত্রা, যানবাহন কেনা ও স্থান পরিবর্তনের জন্য।
- উগ্র বা ক্রূর — ভরণী, মঘা, পূর্বফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, পূর্বভাদ্রপদ। সাহসের কাজে; মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানে এড়ানো হয়।
- মিশ্র বা সাধারণ — কৃত্তিকা, বিশাখা। অগ্নিকর্ম ও নিত্যদিনের কাজের জন্য।
- ক্ষিপ্র বা লঘু — অশ্বিনী, পুষ্যা, হস্তা, অভিজিৎ। দ্রুত শেষ হওয়া কাজ, ওষুধ ও শিল্পকলা।
- মৃদু বা মৈত্র — মৃগশিরা, চিত্রা, অনুরাধা, রেবতী। বিবাহ, অলঙ্কার, বস্ত্র ও বন্ধুত্বের কাজ।
- তীক্ষ্ণ বা দারুণ — আর্দ্রা, অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা, মূলা। মন্ত্রদীক্ষা, অস্ত্রোপচার ও কঠোর সিদ্ধান্ত।
🔗 আজকের নক্ষত্র কীভাবে কাজে লাগাবেন
দিনের নক্ষত্র জানা থাকলে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, সেই নক্ষত্রের শ্রেণি দেখে আজ কোন কাজ শুরু করা যায় তা ঠিক করা। দ্বিতীয়ত, নিজের জন্মনক্ষত্র থেকে আজকের নক্ষত্র কত নম্বরে তা গুনে তারাবল বার করা — জন্ম, সম্পৎ, বিপৎ, ক্ষেম, প্রত্যরি, সাধক, বধ, মৈত্র ও পরম মৈত্র এই নয়টি তারা ঘুরেফিরে আসে। তৃতীয়ত, আজ চন্দ্রাষ্টম কি না তা যাচাই করা।
নক্ষত্র একাই ভালো হলেও সেদিনের তিথি ও করণ মিললে তবেই মুহূর্ত সম্পূর্ণ হয়। নক্ষত্র ফল, আজকের তিথি ও চন্দ্রাষ্টম পাতাগুলি একসঙ্গে দেখাই সঠিক পদ্ধতি।