🪄 আজকের করণ
কৌলব করণ — শুভ করণ। বিবাহ ও অনুষ্ঠানের পক্ষে অনুকূল।
ℹ️ করণ সম্পর্কে
করণ হল একটি তিথির অর্ধেক সময়। এক চান্দ্রমাসে ৬০টি করণ থাকে। এগুলি ১১ প্রকার — ৪টি স্থির ও ৭টি চর।
করণের প্রকারভেদ
স্থির করণ — ৪টি: শকুনি, চতুষ্পাদ, নাগব ও কিংস্তুঘ্ন। এগুলি মাসে একবারই আসে।
চর করণ — ৭টি: বব, বালব, কৌলব, তৈতিল, গরজ, বণিজ ও বিষ্টি। এগুলি বারবার ফিরে আসে।
বিষ্টি (ভদ্রা) করণকে অশুভ ধরা হয়। বাকি করণগুলি সাধারণত শুভ বা মধ্যম।
🧮 করণ কী? অর্ধ তিথির হিসাব
একটি তিথির ঠিক অর্ধেকই এক করণ। অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্রের মধ্যেকার দূরত্ব ছয় ডিগ্রি বাড়তে যে সময় লাগে। এক চান্দ্রমাসে ত্রিশটি তিথি থাকায় ষাটটি করণ হয়। পঞ্চাঙ্গের পাঁচটি অঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে সূক্ষ্ম কালবিভাজন এটিই — গড়ে দশ থেকে তেরো ঘণ্টা মাত্র স্থায়ী একটি উপাদান।
ষাটটি করণের ষাটটি আলাদা নাম নেই; নাম মাত্র এগারোটি। তার মধ্যে সাতটি চক্রাকারে বারবার ফিরে আসা চর করণ এবং চারটি মাসে একবারই আসা স্থির করণ। দিনের প্রথমার্ধে ও দ্বিতীয়ার্ধে আলাদা করণ পড়তে পারে বলে পঞ্জিকায় প্রায়ই দুটি করণ পাশাপাশি লেখা থাকে।
📿 এগারোটি করণ ও তাদের কর্মক্ষেত্র
চর করণ — সাতটি। শুক্লপক্ষ প্রতিপদের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে এগুলি আটবার চক্রাকারে ঘোরে।
- বব — প্রতীক সিংহ। নতুন উদ্যোগ ও দীর্ঘদিন চলবে এমন কাজের পক্ষে উত্তম।
- বালব — প্রতীক বাঘ। অধ্যয়ন, উপনয়ন ও সরকারি কাজের জন্য।
- কৌলব — প্রতীক শূকর। বন্ধুত্ব, বিবাহ, অংশীদারি ও সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্য।
- তৈতিল — প্রতীক গাধা। নির্মাণ, বাড়ি তৈরি ও স্থাবর সম্পত্তির লেনদেনে।
- গরজ — প্রতীক হাতি। কৃষি, বীজ বপন ও জমি সংক্রান্ত কাজে।
- বণিজ — প্রতীক গাভী। ব্যবসা, হিসাব মেটানো ও আর্থিক লেনদেনে।
- বিষ্টি — প্রতীক মোরগ। একেই ভদ্রা বলা হয়; শুভকর্মে বর্জ্য।
স্থির করণ — চারটি। এগুলি চান্দ্রমাসের সন্ধিক্ষণে একবারই আসে। কৃষ্ণপক্ষ চতুর্দশীর দ্বিতীয়ার্ধে শকুনি, অমাবস্যার প্রথমার্ধে চতুষ্পাদ, দ্বিতীয়ার্ধে নাগব এবং শুক্লপক্ষ প্রতিপদের প্রথমার্ধে কিংস্তুঘ্ন। শকুনি মন্ত্রসাধনা ও ওষুধের জন্য, চতুষ্পাদ পিতৃকর্ম ও গোদানের জন্য, নাগব সর্পপূজা ও ব্রতের জন্য এবং কিংস্তুঘ্ন সব শুভকর্মের পক্ষে অনুকূল বলে ধরা হয়।
⚠️ বিষ্টি অর্থাৎ ভদ্রা — কেন এড়ানো হয়
এগারোটি করণের মধ্যে কেবল বিষ্টিকেই বর্জ্য বলে গণ্য করা হয়। এটি সূর্যের কন্যা ও শনির ভগিনী ভদ্রাদেবীর কাল — এমনই পৌরাণিক ধারণা। এক চান্দ্রমাসে আটবার বিষ্টি আসে, অর্থাৎ প্রায় তিন দিনে একবার।
ভদ্রা সবসময় সমানভাবে দোষকর নয়, এটি লক্ষণীয়। ভদ্রা স্বর্গে বা পাতালে থাকলে পৃথিবীর মানুষের পক্ষে দোষ কম; কেবল ভূলোকে বাস করার সময়েই তা সম্পূর্ণ বর্জ্য বলে মুহূর্ত গ্রন্থগুলি বলে। চন্দ্র মেষ, বৃষ, মিথুন বা বৃশ্চিক রাশিতে থাকলে ভদ্রা ভূলোকে অবস্থান করে।
বিবাহ, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন, নতুন দোকান খোলা ও যাত্রারম্ভ — এই কাজগুলি বিষ্টিতে এড়িয়ে চলা হয়। তবে অস্ত্রোপচার, আদালতের কাজ, বিবাদ মীমাংসা ও অস্ত্র সংক্রান্ত কর্মে এই করণের দোষ নেই বলেই ঐতিহ্যের অবস্থান।
🔗 মুহূর্তে করণের ব্যবহার
তিথি, নক্ষত্র ও যোগ দিনের সামগ্রিক স্বভাব বলে, আর করণ সেই দিনের নির্দিষ্ট অর্ধাংশ চিহ্নিত করে। সেই কারণেই সূক্ষ্ম মুহূর্ত স্থির করার সময় সবশেষে যাচাই করা অঙ্গটি হল করণ।
বাস্তবে, তিথি ও নক্ষত্র অনুকূল এমন দিনের কোন অর্ধাংশ বেছে নেওয়া উচিত — এই প্রশ্নের উত্তরই করণ। সকালে বিষ্টি ও সন্ধ্যায় বব থাকলে অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যার দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আজকের পঞ্জিকা, আজকের যোগ ও মুহূর্ত পাতাগুলিও সঙ্গে দেখুন।