♊ মিথুন রাশির বর্তমান অবস্থা
এখন সাড়েসাতি চলছে না
মিথুন রাশিতে এখন সাড়েসাতি নেই। শনি মীনে থাকায় তিনি মিথুন থেকে দশম অর্থাৎ কর্মস্থানে রয়েছেন। দশম ভাবের শনি কাজের বোঝা বাড়ান, কিন্তু একই সঙ্গে করা কাজের স্বীকৃতিও আদায় করে দেন — জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে।
মিথুনের পরের সাড়েসাতি শুরু হবে শনি বৃষে যাওয়ার পর, অর্থাৎ আনুমানিক ২০৩০-এর মাঝামাঝি। জন্ম শনির তীব্র পর্ব শনি মিথুনে থাকাকালীন ২০৩২ থেকে ২০৩৫ এবং উত্তরণের পর্ব শনি কর্কটে থাকাকালীন ২০৩৫ থেকে ২০৩৭। আগের সাড়েসাতি এপ্রিল ২০০০-এ শুরু হয়ে জুলাই ২০০৭-এ শেষ হয়েছিল; ফলে এই প্রজন্মের বেশির ভাগ মিথুন রাশির মানুষ সেটি চাকরিজীবনের গোড়ার বছরগুলিতে পার করেছেন।
ধাইয়ার দিক থেকে মিথুনের চতুর্থ ভাবের ধাইয়া আসবে শনি কন্যায় থাকাকালীন ২০৪০ থেকে ২০৪২ এবং অষ্টম শনি শনি মকরে থাকাকালীন ২০৫০ থেকে ২০৫২ পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী পঁচিশ বছরে এই রাশির সামনে একমাত্র বড় শনিযোগ হল ২০৩০ থেকে ২০৩৭-এর সাড়েসাতি। এখনকার দশম শনি কষ্ট নয়, পরীক্ষা — জুন ২০২৭-এ তা শেষ হয়ে শনি একাদশ লাভস্থানে চলে যাবেন।
| আপনার চন্দ্ররাশি | ♊ মিথুন |
|---|---|
| শনির বর্তমান রাশি | মীন — ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে |
| চন্দ্র থেকে শনির ভাব | 10তম ভাব |
| সাড়েসাতির মোট কাল | সাড়ে সাত বছর (আড়াই + আড়াই + আড়াই) |
তিনটি পর্ব, ধাইয়া ও সাধারণ প্রশ্ন — সাড়েসাতির মূল পাতা।
📖 মিথুন রাশিতে এর প্রভাব
মিথুনের অধিপতি বুধ এবং বুধ-শনি মিত্র। তাই এই রাশির সাড়েসাতি বুদ্ধিকে ক্লান্ত করে, জীবনের ভিত নাড়ায় না। বুধের কারকত্ব বাক্য, হিসেব, চুক্তি ও ব্যবসার — তাই শনির সময়ে ঠিক এই জায়গাগুলিতেই অসুবিধা আসে: বলা কথা উল্টো অর্থে নেওয়া, চুক্তির সূক্ষ্ম শর্ত চোখ এড়িয়ে যাওয়া, ধারে দেওয়া টাকা আটকে থাকা।
এখন দশম শনির কারণে চাকরিতে দায়িত্ব বাড়ে কিন্তু পদ বাড়ে না — এই অভিযোগ এই রাশির কাছ থেকে নিয়ম করে শোনা যায়। এই পর্বটি ছেড়ে দেওয়ার নয়; দশম শনি ধৈর্য ধরে থাকা মানুষকে দু’-আড়াই বছরের মধ্যে পদোন্নতি দেন।
মিথুন রাশির জাতকের একটি বৈশিষ্ট্য হল তিনি একসঙ্গে অনেক কাজ হাতে নেন। শনির সময়ে ঠিক এই অভ্যাসটাই বিপদে ফেলে — শনি ছড়ানো কাজ পছন্দ করেন না, তিনি শেষ হওয়া কাজ পছন্দ করেন। লগ্নভেদে পার্থক্যও বড়: মকর বা কুম্ভ লগ্ন হলে শনি লগ্নেশ হন এবং সাড়েসাতি উল্টে স্থিতি দেয়; মেষ লগ্নে শনি দশম-একাদশেশ হলেও মারকের ছোঁয়া থাকায় শরীরের দিকে বাড়তি নজর দিতে হয়।
🕉️ মিথুন রাশির জন্য প্রতিকার
বুধ অধিপতি হওয়ায় মিথুনের প্রতিকার বিদ্যা ও বৈষ্ণব উপাসনার দিকে যায়। নদিয়ার নবদ্বীপ — চৈতন্যদেবের জন্মভূমি এবং বহু শতাব্দী ধরে বাংলার ন্যায়শাস্ত্র ও সংস্কৃত টোলের প্রধান কেন্দ্র — এই রাশির জন্য বলা স্থান। বিদ্যা ও বাক্য বুধেরই কারকত্ব, আর বাংলায় এই দুইয়ের ঐতিহাসিক ঠিকানা নবদ্বীপ।
বুধবারে বিষ্ণু বা গৌরাঙ্গ দর্শন, তুলসীতলায় জল, সবুজ বস্ত্র, মুগ ডাল ও সবুজ শাকসবজি দান এবং ছাত্রছাত্রীদের বইখাতা দেওয়া — এগুলি বুধের বল বাড়ায়। শনির জন্য মিথুনের উচিত শনিবারে সাফাইকর্মী, গাড়িচালক ও মিস্ত্রিদের সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবহার।
ব্রতের স্তরে এই রাশির জন্য দোলপূর্ণিমা ও গৌরপূর্ণিমার নবদ্বীপ পরিক্রমা বছরের প্রধান আচার — কয়েক দিন ধরে পায়ে হেঁটে নবদ্বীপ ধাম প্রদক্ষিণ করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, আর সেখানে ছোট-বড়র ভেদ থাকে না। অহংকার গলে যাওয়াই শনির প্রধান পাঠ। মিথুনের দোষ বেশির ভাগ সময় কথা থেকেই হয়, তাই আর একটি প্রতিকার — শনিবারে দিনের কিছুটা সময় মৌন থাকা। পান্না রত্ন বলা হয়, তবে বুধ শুভ স্থানে থাকলে তবেই।