♑ মকর রাশির বর্তমান অবস্থা
এখন সাড়েসাতি চলছে না
মকর রাশির সাড়েসাতি সদ্য শেষ হয়েছে। তা জানুয়ারি ২০১৭-য় শনি ধনুতে আসার পর শুরু হয়, জানুয়ারি ২০২০ থেকে জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত জন্ম শনির তীব্র পর্ব কেটেছে এবং ২৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে শনি মীনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। টানা সাড়ে আট বছরের এই পর্ব এই প্রজন্মের মকর রাশির মানুষের জীবন গড়ে দিয়েছে।
এখন শনি মকর থেকে তৃতীয় অর্থাৎ পরাক্রমস্থানে রয়েছেন — বারোটি স্থানের মধ্যে শনির পক্ষে অন্যতম অনুকূল জায়গা। জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই সময়টি সাহসী সিদ্ধান্ত, চাকরি বদল এবং নিজের ব্যবসা দাঁড় করানোর পক্ষে উপযুক্ত। পরের সাড়েসাতি শুরু হবে শনি আবার ধনুতে ফিরলে, অর্থাৎ আনুমানিক ২০৪৭ নাগাদ।
তবে একটি পর্ব কাছেই — চতুর্থ ভাবের ধাইয়া জুন ২০২৭ থেকে শুরু হচ্ছে এবং ২০৩০ পর্যন্ত চলবে। শনি মেষে গেলেই তিনি মকর থেকে চতুর্থ ভাবে আসবেন, আর সেখানে তিনি নীচও হবেন। বাড়ি, জমি ও মায়ের শরীর — এই বিষয়গুলি তখন সামনে আসবে। অষ্টম শনি অনেক পরে — শনি সিংহে থাকাকালীন ২০৩৭ থেকে ২০৪০-এ। অর্থাৎ মকরের জন্য আগামী দু’বছর ফাঁকা এবং সেটিই পরিকল্পনায় কাজে লাগানোর।
| আপনার চন্দ্ররাশি | ♑ মকর |
|---|---|
| শনির বর্তমান রাশি | মীন — ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে |
| চন্দ্র থেকে শনির ভাব | 3তম ভাব |
| সাড়েসাতির মোট কাল | সাড়ে সাত বছর (আড়াই + আড়াই + আড়াই) |
তিনটি পর্ব, ধাইয়া ও সাধারণ প্রশ্ন — সাড়েসাতির মূল পাতা।
📖 মকর রাশিতে এর প্রভাব
মকরের অধিপতি শনি নিজেই। তাই এই রাশির সঙ্গে শনির সম্পর্ক অন্য যে কোনও রাশির চেয়ে আলাদা — সাড়েসাতি কষ্ট দেয়, কিন্তু পর মনে হয় না। অনেক মকর রাশির মানুষের ক্ষেত্রে সাড়েসাতির সময়েই প্রথম বড় দায়িত্ব, প্রথম নিজের বাড়ি বা প্রথম স্বাধীন রোজগার এসেছে বলে দেখা যায়। শনি নিজের ঘর দিয়ে যাওয়ার সময় শৃঙ্খলা শেখান, ধ্বংস করেন না।
২০১৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এই রাশি যা সহ্য করেছে তার ফল এখন দেখা দিতে শুরু করেছে — তাই এই পর্বটি হাতছাড়া করা উচিত নয়। তৃতীয় শনির সময়ে ভাইবোনের সঙ্গে বিবাদ মিটিয়ে ফেলা, নতুন দক্ষতা শেখা এবং আগামী দশ বছরের আর্থিক পরিকল্পনা করা — এই তিনটিই অগ্রাধিকারের।
শনির রাশিতেই জন্ম বলে এই মানুষদের সহ্যশক্তি বেশি; কিন্তু ঠিক সেই কারণেই তাঁরা সাহায্য চাইতে ইতস্তত করেন — সাড়েসাতি শেষ হওয়ার পরেও এই অভ্যাস অসুবিধায় ফেলে। এই রাশির চেনা প্রশ্ন — ‘সাড়েসাতি তো শেষ, এবার কী?’ উত্তর হল, শনির রাশিতে জন্মানো মানুষের পরিশ্রম কখনও শেষ হয় না, কেবল তার চেহারা বদলায়। মকর লগ্ন হলে শনি লগ্নেশ-দ্বিতীয়েশ হন এবং প্রতিটি শনিযোগই ব্যক্তিগত বিকাশের পর্ব হয়ে ওঠে।
🕉️ মকর রাশির জন্য প্রতিকার
অধিপতি শনি নিজেই হওয়ায় মকরের প্রতিকার সরাসরি শনি ও শিবের উপাসনার। এই রাশির জন্য বলা বাংলার স্থানটি নামেই মিলে যায় — গঙ্গাসাগর, সাগরদ্বীপ (দক্ষিণ ২৪ পরগনা)। মকর সংক্রান্তির দিনে সূর্য শনির মকর রাশিতে প্রবেশ করেন এবং সেই তিথিতেই গঙ্গা ও সাগরের সঙ্গমে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী স্নান করেন। ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’ — প্রবাদটি বাংলার সবাই জানেন।
শনিবারে অশ্বত্থতলার শনি ঠাকুরের থানে সরষের তেল ও নীল অপরাজিতা নিবেদন, তিল, বিউলির ডাল, কালো বস্ত্র ও লোহা দান, শনি স্তোত্র পাঠ এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাহায্য — এগুলিই এই রাশির প্রতিকার। নীলা মকর রাশিকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সয়, কারণ শনি লগ্নেশ বা রাশ্যধিপতি হন; তবু তা বিশেষজ্ঞের পরামর্শেই ধারণ করা উচিত।
ব্রতের মধ্যে এই রাশির জন্য মকর সংক্রান্তির স্নান ও পৌষপার্বণ বছরের প্রধান দিন — সূর্য ও শনির পিতা-পুত্রের মিলন হিসেবে এই তিথিকে দেখা হয়, আর পিঠে-পুলি বিলিয়ে পুরোনো বিবাদ মেটানোর রীতিটি ঠিক সেই অর্থেরই।