☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 16 October 2026

⏳ ♉ বৃষ রাশি — শনির সাড়েসাতি

এখন সাড়েসাতি চলছে না

Sade Sati in Bengali | বৃষ Rashi

♉ বৃষ রাশির বর্তমান অবস্থা

এখন সাড়েসাতি চলছে না

বৃষ রাশিতে এখন সাড়েসাতি নেই। শনি মীনে থাকায় তিনি বৃষ থেকে একাদশ অর্থাৎ লাভস্থানে রয়েছেন — বারোটি স্থানের মধ্যে শনির পক্ষে সবচেয়ে অনুকূল জায়গা। মার্চ ২০২৫ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই লাভযোগ টিকবে।

বৃষের সাড়েসাতি শুরু হবে ৩ জুন ২০২৭ তারিখে, কারণ সেদিন শনি মেষে — বৃষ থেকে দ্বাদশ রাশিতে — প্রবেশ করেন। জন্ম শনির তীব্র পর্ব শনি বৃষে আসার পর, আনুমানিক ২০৩০-এর মাঝামাঝি থেকে ২০৩২ পর্যন্ত এবং উত্তরণের পর্ব শনি মিথুনে থাকাকালীন ২০৩২ থেকে ২০৩৫। এই মুহূর্তে সাড়েসাতি নেই এমন ন’টি রাশির মধ্যে বৃষের পালাই সবার আগে। আগের সাড়েসাতি এপ্রিল ১৯৯৮ থেকে এপ্রিল ২০০৫-এ শেষ হয়েছিল।

বৃষের চতুর্থ ভাবের ধাইয়া আসবে শনি সিংহে থাকাকালীন ২০৩৭ থেকে ২০৪০ এবং অষ্টম শনি শনি ধনুতে থাকাকালীন ২০৪৭ থেকে ২০৫০ পর্যন্ত। একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় — এই মুহূর্তে শনি মীন থেকে তৃতীয় দৃষ্টিতে সরাসরি বৃষ রাশির দিকে তাকিয়ে আছেন। শনির তিনটি দৃষ্টির মধ্যে তৃতীয়টি সবচেয়ে মৃদু এবং পরিশ্রমের ফল দেয় বলে ধরা হয়, তাই এই দু’বছরে করা খাটুনি বৃথা যায় না।

আপনার চন্দ্ররাশি♉ বৃষ
শনির বর্তমান রাশিমীন — ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে
চন্দ্র থেকে শনির ভাব11তম ভাব
সাড়েসাতির মোট কালসাড়ে সাত বছর (আড়াই + আড়াই + আড়াই)

তিনটি পর্ব, ধাইয়া ও সাধারণ প্রশ্ন — সাড়েসাতির মূল পাতা।

📖 বৃষ রাশিতে এর প্রভাব

বৃষের অধিপতি শুক্র এবং শুক্র-শনি জুটি জ্যোতিষে মিত্র বলে গণ্য। তাই এই রাশির সাড়েসাতি অন্য রাশির মতো ধারালো হয় না; এটি আর্থিক শৃঙ্খলার পরীক্ষা নেয়, জীবন ওলটপালট করে দেয় না।

আগামী দু’বছরে যে আয়, বোনাস বা সম্পত্তি বিক্রির টাকা আসবে তা জমিয়ে রাখাই বৃষের সবচেয়ে বাস্তব পরিকল্পনা, কারণ ২০২৭-এর পরের খরচের পর্বটি প্রস্তুতি নিয়ে পার হওয়া যায়। শুক্রের রাশি বলে সাড়েসাতিতে ভোগবিলাস, প্রসাধন ও অনুষ্ঠানের খরচ বেহিসেবি বেড়ে যায় এবং দাম্পত্যে ধৈর্য কমে আসে — এই দুই জায়গাই এই রাশির দুর্বল জায়গা।

এখানে একটি প্রশ্ন বারবার ওঠে — ‘সাড়েসাতি তো এখনও শুরুই হয়নি, তাহলে এখনকার কষ্টটা কীসের?’ উত্তর সোজা: প্রতিটি অসুবিধা শনির নয়। চলতি মহাদশা-অন্তর্দশা, বৃহস্পতির গোচর এবং রাহু-কেতুর অক্ষ — তিনটিই আলাদাভাবে ফল দেয়। বৃষ লগ্নের জাতকদের ক্ষেত্রে তো শনি নবম-দশমেশ অর্থাৎ যোগকারক হন, এবং এমন কোষ্ঠীতে ২০২৭-এর পরের সাড়েসাতি কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় লাফ নিয়ে আসে। ভয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়াই এই রাশির আসল ভুল।

🕉️ বৃষ রাশির জন্য প্রতিকার

শুক্র অধিপতি হওয়ায় বৃষের প্রতিকার শিল্প ও লক্ষ্মী-উপাসনার দিকে ঝোঁকে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর — মল্লরাজাদের রাজধানী, টেরাকোটা মন্দিরের শহর এবং বিষ্ণুপুর ঘরানার জন্মভূমি — এই রাশির জন্য বলা বাংলার স্থান। শিল্প, সঙ্গীত ও সৌন্দর্য শুক্রেরই কারকত্ব, আর বাংলায় এই তিনটির একত্র প্রকাশ বিষ্ণুপুরেই সবচেয়ে স্পষ্ট।

শুক্রবারে লক্ষ্মীর পাঁচালি পাঠ, সাদা বস্ত্র, রুপো দান এবং চাল-দুধ-চিনি বিতরণ — এগুলি শুক্রের বল বাড়ায়। শনির জন্য আলাদা কিছু করতে চাইলে শনিবারে অন্ধ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে অন্নদান বৃষের পক্ষে বিশেষ ফলদায়ী।

ব্রতের মধ্যে এই রাশির জন্য কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বছরের প্রধান দিন — আশ্বিন পূর্ণিমার রাতে জেগে থেকে লক্ষ্মীর আরাধনা বাংলার ঘরোয়া আচারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়। ভাদ্র ও পৌষ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীব্রতও এই রাশিতে খাটে। হীরা বা নীলা — কোনওটিই নিজের ইচ্ছেয় পরা উচিত নয়। আর সবচেয়ে বাস্তব পরামর্শ: সাড়েসাতি শুরুর আগের এই দু’বছরে ধারদেনা কমিয়ে ফেলা, কারণ শনি ঋণের ব্যাপারে সবচেয়ে কড়া।

⚠️ এই লেখা চন্দ্ররাশির ভিত্তিতে — সীমা ও বিস্তারিত টীকা।