☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 16 October 2026

⏳ ♏ বৃশ্চিক রাশি — শনির সাড়েসাতি

এখন সাড়েসাতি চলছে না

Sade Sati in Bengali | বৃশ্চিক Rashi

♏ বৃশ্চিক রাশির বর্তমান অবস্থা

এখন সাড়েসাতি চলছে না

বৃশ্চিক রাশিতে এখন সাড়েসাতি নেই। শনি মীনে থাকায় তিনি বৃশ্চিক থেকে পঞ্চম ভাবে রয়েছেন। পঞ্চম শনি সন্তানের ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় মনঃসংযোগের অসুবিধা দেখান, তবে গবেষণা, গূঢ়বিদ্যা ও দীর্ঘ অধ্যয়নের পক্ষে এই সময়টি ভালো — জুন ২০২৭ পর্যন্ত এই অবস্থা থাকবে।

বৃশ্চিকের সাড়েসাতি শুরু হবে শনি তুলায় গেলে — আনুমানিক ২০৪২ সালে। প্রথম পর্বটি উচ্চ শনির হবে, জন্ম শনি ২০৪৫ থেকে ২০৪৭ এবং উত্তরণ শনি ধনুতে থাকাকালীন ২০৪৭ থেকে ২০৫০। আগের সাড়েসাতি নভেম্বর ২০১১-য় শুরু হয়ে জানুয়ারি ২০২০-এ শেষ হয়েছে; অর্থাৎ বৃশ্চিক সদ্য একটি পূর্ণ সাড়েসাতি পার করেছে।

সাড়েসাতি শেষ হওয়ার পরেও এই রাশির একটি পর্ব কেটেছে — চতুর্থ ভাবের ধাইয়া ছিল জানুয়ারি ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত। বাড়ি, জমি ও মায়ের শরীরের প্রশ্ন ঠিক তখনই সামনে এসে থাকলে কারণ এটিই। অষ্টম শনি পরে — শনি মিথুনে থাকাকালীন ২০৩২ থেকে ২০৩৫-এ আসবে। অর্থাৎ মার্চ ২০২৫ থেকে বৃশ্চিকের উপর শনির কোনও বড় চাপ নেই; এই সাত বছর ফাঁকা।

আপনার চন্দ্ররাশি♏ বৃশ্চিক
শনির বর্তমান রাশিমীন — ২৯ মার্চ ২০২৫ থেকে
চন্দ্র থেকে শনির ভাব5তম ভাব
সাড়েসাতির মোট কালসাড়ে সাত বছর (আড়াই + আড়াই + আড়াই)

তিনটি পর্ব, ধাইয়া ও সাধারণ প্রশ্ন — সাড়েসাতির মূল পাতা।

📖 বৃশ্চিক রাশিতে এর প্রভাব

বৃশ্চিকের অধিপতি মঙ্গল এবং মঙ্গল-শনি শত্রু; কিন্তু বৃশ্চিক মঙ্গলের গূঢ়, গভীর ও ভিতরের দিকে ফেরা রাশি বলে এই রাশির সাড়েসাতি মেষের চেয়ে আলাদা ভাবে চলে। মেষে সংঘাত বাইরে দেখা যায়, বৃশ্চিকে তা ভিতরে চলে। এই রাশির জাতক সাড়েসাতিতে কথা কমিয়ে দেন, নিজের মধ্যে গুটিয়ে যান এবং পরে হঠাৎ বদলে যাওয়া মানুষ হিসেবে ধরা দেন।

২০১১ থেকে ২০২০-এর সাড়েসাতি যাঁরা পার করেছেন তাঁদের কাছে এটি চেনা লাগবে — চাকরি বদলেছে, শহর বদলেছে বা সম্পর্কের বিন্যাস নতুন করে সাজাতে হয়েছে। এখন পঞ্চম শনির সময়ে সন্তানের পড়াশোনা, বিনিয়োগের ঝুঁকি এবং লটারি-ফাটকা জাতীয় ব্যাপার এড়িয়ে চলার পরামর্শ খাটে।

এই রাশির চেনা প্রশ্ন — ‘সাড়েসাতি শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পরেও সব গুছিয়ে উঠছে না কেন?’ উত্তর হল, সাড়েসাতি শেষ হলেই ফল হাতে আসে না; শনি যা শেখান তার ফল পরের দশকে ধাপে ধাপে আসে। তার উপর ২০২৩-২৫-এর ধাইয়া মাঝখানে পড়েছিল। বৃশ্চিক লগ্নের ক্ষেত্রে শনি তৃতীয়-চতুর্থেশ হন, তাই বাড়ি ও ভাইবোন — এই দুটি বিষয় শনির প্রতিটি পর্বে সামনে আসে। মঙ্গল অধিপতি বলে রক্ত, ক্ষত ও জ্বরের অভিযোগ অবহেলা করা উচিত নয়।

🕉️ বৃশ্চিক রাশির জন্য প্রতিকার

মঙ্গল অধিপতি হওয়ায় বৃশ্চিকের প্রতিকার উগ্র শক্তির উপাসনার। বীরভূমের তারাপীঠ — দ্বারকা নদীর তীরে মা তারার মন্দির ও পাশের মহাশ্মশান, বামাক্ষ্যাপার সাধনস্থল — এই রাশির জন্য বলা স্থান। বৃশ্চিক গূঢ় ও তান্ত্রিক সাধনার রাশি, আর বাংলায় সেই ধারার প্রধান কেন্দ্র তারাপীঠই।

মঙ্গলবারে লাল জবা ও লাল বস্ত্র নিবেদন, মুসুর ডাল দান, রক্তদান এবং হনুমান চালিশা পাঠ — এগুলি মঙ্গলের বল বাড়ায়। শনির জন্য শনিবারে অশ্বত্থগাছে জল ঢালা এবং শ্রমজীবী মানুষকে খাওয়ানো বলা হয়।

ব্রতের স্তরে বৃশ্চিকের জন্য কৌশিকী অমাবস্যা সবচেয়ে নির্দিষ্ট দিন — ভাদ্র মাসের এই অমাবস্যায় তারাপীঠে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয় এবং এই তিথিকে সাধনার পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে ধরা হয়। প্রবাল ধারণের কথা ভাবলে মঙ্গল কোন ভাবের অধিপতি তা দেখে নেওয়া দরকার — বৃশ্চিক লগ্নে মঙ্গল লগ্নেশ হওয়ায় তা সাধারণত কাজে লাগে। গত সাড়েসাতিতে যা শেখা হয়েছে তা আগামী কুড়ি বছরের পুঁজি।

⚠️ এই লেখা চন্দ্ররাশির ভিত্তিতে — সীমা ও বিস্তারিত টীকা।