☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 17 October 2026

শতভিষা নক্ষত্র ফল

Shatabhisha Nakshatra Palan | শতভিষা Natchathira Palangal

Shatabhisha Nakshatra | অধিপতি: রাহু | রাশি: কুম্ভ

⭐ শতভিষা (Shatabhisha) — এক নজরে

🔢 নক্ষত্র সংখ্যা: 24 🪐 অধিপতি গ্রহ: রাহু ♈ রাশি: কুম্ভ 📐 বিস্তার: কুম্ভ ৬°৪০′–২০°০০′ 🕉️ দেবতা: বরুণ 🔱 প্রতীক: শূন্য বৃত্ত 👥 গণ: রাক্ষস 🐾 যোনি: অশ্ব (স্ত্রী) 💨 নাড়ী: আদি — বাত 🏷️ বর্ণ: ব্যাধ ⏳ আরম্ভ মহাদশা: রাহু, ১৮ বছর 🌙 চন্দ্রাষ্টম রাশি: কন্যা

📊 চার চরণ ও নবাংশ — Shatabhisha Padas

চরণঅংশরাশিনবাংশসংক্ষেপে
1 ৬°৪০′–১০°০০′ কুম্ভ ধনু দর্শন ও ঔষধিবিদ্যার টান
2 ১০°০০′–১৩°২০′ কুম্ভ মকর একা, নিয়মনিষ্ঠ গবেষক
3 ১৩°২০′–১৬°৪০′ কুম্ভ কুম্ভ বর্গোত্তম — সবচেয়ে মৌলিক
4 ১৬°৪০′–২০°০০′ কুম্ভ মীন রহস্য ও নিরাময়ের দিক

চন্দ্রের অংশ কোন চরণে পড়ছে তা জানতে জন্মকোষ্ঠী প্রয়োজন — বিনামূল্যে কোষ্ঠী তৈরি করুন।

চরণভেদে ফল

শতভিষা পুরোটাই কুম্ভে, ৬°৪০′ থেকে ২০°০০′ — শনির রাশিতে রাহুর নক্ষত্র, দেবতা বরুণ। চার চরণের নবাংশ ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীন। নামের অর্থ ‘একশো বৈদ্য’ বা ‘একশো ওষুধ’, আর প্রতীক শূন্য বৃত্ত — যা ঘিরে রাখে, ভরে না।

প্রথম চরণে ধনু নবাংশ দর্শন ও ঔষধিবিদ্যার দিকে টানে; আয়ুর্বেদ ও ভেষজচর্চার সবচেয়ে ভাল চরণ। দ্বিতীয় চরণে মকর নবাংশে একা, নিয়মনিষ্ঠ গবেষকের ছাঁচ। তৃতীয় চরণে নবাংশও কুম্ভ, অর্থাৎ বর্গোত্তম — শতভিষার মৌলিকতা, বিচ্ছিন্নতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা এই চরণেই সবচেয়ে ঘন। চতুর্থ চরণে মীন নবাংশে রহস্য ও নিরাময়ের দিকটি খোলে, এবং আধ্যাত্মিক ঝোঁকও এখানেই সবচেয়ে বেশি।

স্বভাব ও মানসিক গঠন

বরুণ জলের ও শপথের দেবতা, আর শতভিষার জাতক ঠিক তাই — গোপন রাখেন, নিজের ভিতরের কথা সহজে বলেন না। রাক্ষস গণ ও অশ্বযোনি মিলে স্বাধীনচেতা, দ্রুতগতি ও একরোখা স্বভাব। বাত নাড়ী অস্থিরতা, ব্যাধ বর্ণ প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস। তিন রাহু-নক্ষত্রের মধ্যে আর্দ্রার রাহু প্রশ্ন করে ও ভাঙে, স্বাতীর রাহু দরাদরি করে, আর শতভিষার রাহু নিরাময় খোঁজে। এঁদের সবচেয়ে বড় সমস্যা একাকিত্ব নয়, একাকিত্বকে অভ্যাস বানিয়ে ফেলা।

কর্মক্ষেত্র

চিকিৎসা — বিশেষত সংক্রামক রোগ ও জনস্বাস্থ্য, আয়ুর্বেদ ও ভেষজবিদ্যা, ওষুধ গবেষণা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ, বৈদ্যুতিন ও বেতার প্রযুক্তি, জলসম্পদ, পরিসংখ্যান, তথ্যনিরাপত্তা, জ্যোতিষ ও গূঢ়বিদ্যা। শতভিষার জাতক একা কাজ করতে ভালবাসেন; দলগত সিদ্ধান্তে এঁরা অধৈর্য হন, কিন্তু নিজের ক্ষেত্রে অসাধারণ গভীরতা দেখান।

বিবাহ ও দাম্পত্য

অশ্বযোনি, বিরোধী মহিষ — হস্তা ও স্বাতীর সঙ্গে যোনিমিলনে সতর্কতা। রাক্ষস গণের সঙ্গে দেব গণে ঘর্ষণ। শতভিষা মধ্যরজ্জু। নিজের পরিসর নিয়ে এঁরা কড়া, তাই সঙ্গীর কাছ থেকে জায়গা চাওয়ার কথাটি শুরুতেই স্পষ্ট বলে দেওয়া ভাল। দাম্পত্যে অবিশ্বাস নয়, নীরবতাই এঁদের আসল ঝুঁকি।

দশা ও সময়

শতভিষায় জন্ম মানে জীবন শুরু রাহু মহাদশা দিয়ে, দৈর্ঘ্য ১৮ বছর, তারপর ষোলো বছরের বৃহস্পতি মহাদশা। আর্দ্রা ও স্বাতীর সঙ্গে ক্রম এক, কিন্তু এখানে রাহু শনির রাশিতে বসেন, যেখানে তাঁকে স্বচ্ছন্দ ধরা হয়। ফলে শৈশবের দীর্ঘ রাহু দশাটি বিশৃঙ্খলার চেয়ে একাগ্রতা ও কৌতূহলের দিকে বেশি ঠেলে দেয়; বহু শতভিষা জাতক অল্প বয়সেই একটি বিষয়ে গভীরভাবে ডুবে যান।

স্বাস্থ্য ও সুস্থতা

আদি বা বাত নাড়ীর নক্ষত্র, কুম্ভ রাশি গোড়ালি ও রক্তসঞ্চালনের অঙ্গ। সাধারণ সুস্থতার দিক থেকে নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত জল ও ঘুমের নির্দিষ্ট সময় — এইটুকুই যথেষ্ট। শতভিষার জাতক নিজের অসুবিধার কথা চেপে রাখেন, তাই নিয়মিত পরীক্ষা করানোর অভ্যাসটি বিশেষভাবে দরকারি। এটি রোগনির্ণয় নয়; শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শই একমাত্র পথ।

বাংলায় প্রচলিত প্রতিকার

‘একশো বৈদ্য’ নামের নক্ষত্রের বাঙালি ক্ষেত্র বক্রেশ্বর। বীরভূমের ওই শৈবপীঠে আটটি উষ্ণ প্রস্রবণ — অগ্নিকুণ্ড, ক্ষীরকুণ্ড, দুধকুণ্ড, সূর্যকুণ্ড আরও কয়েকটি — যেখানে গন্ধকমিশ্রিত গরম জলে স্নান করতে মানুষ শত শত বছর ধরে আসছেন। বাংলায় জলের মাধ্যমে আরোগ্যের এর চেয়ে জীবন্ত ও এর চেয়ে বেশি বরুণ-ঘনিষ্ঠ জায়গা আর নেই, এবং এটি ধার করা নয়। শতভিষার জাতকের পক্ষে বাস্তব প্রতিকার আরও সহজ — কোনও স্বাস্থ্যশিবির বা রক্তদান কর্মসূচিতে নিয়মিত যুক্ত থাকা, আর জলের অপচয় বন্ধ করা। রাহুর জন্য বাংলায় আলাদা মন্দির নেই।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

শতভিষা নামের অর্থ কী?

শত অর্থাৎ একশো, আর ভিষক অর্থাৎ বৈদ্য — ‘একশো বৈদ্য’ বা ‘একশো ওষুধ’। এর সঙ্গে দেবতা বরুণ ও প্রতীক শূন্য বৃত্ত মিলে নিরাময়, গোপনীয়তা ও ঘিরে রাখার ভাব তৈরি করে। চিকিৎসা, ভেষজবিদ্যা ও গবেষণার সঙ্গে এই নক্ষত্রের যোগ সেখান থেকেই।

শতভিষার কোন চরণ বর্গোত্তম?

তৃতীয় চরণ, কুম্ভ ১৩°২০′ থেকে ১৬°৪০′। ওই চরণের নবাংশও কুম্ভ, অর্থাৎ রাশি ও নবাংশ এক। এই চরণে শতভিষার মৌলিকতা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ও গবেষণার ক্ষমতা সবচেয়ে ঘন চেহারা পায়।

শতভিষা ও স্বাতী দুটিরই অধিপতি রাহু — তফাত কী?

স্বাতী তুলায়, দেবতা বায়ু — সেই রাহু দরাদরি, বাণিজ্য ও নমনীয়তার দিকে যায়। শতভিষা কুম্ভে, দেবতা বরুণ — এই রাহু নিরাময়, গবেষণা ও গোপনীয়তার দিকে যায়। একটি বাজারে, অন্যটি পরীক্ষাগারে।

🎯 তারাবল ও মিলন — শতভিষা থেকে গোনা

সম্পৎ তারা (২)পূর্বভাদ্রপদ, পুনর্বসু, বিশাখা
ক্ষেম তারা (৪)রেবতী, অশ্লেষা, জ্যেষ্ঠা
মিত্র তারা (৮)রোহিণী, হস্তা, শ্রবণা
বিপৎ তারা (৩)উত্তরভাদ্রপদ, পুষ্যা, অনুরাধা
প্রত্যরি তারা (৫)অশ্বিনী, মঘা, মূলা
বধ তারা (৭)কৃত্তিকা, উত্তরফাল্গুনী, উত্তরাষাঢ়া

জন্মনক্ষত্র থেকে গুনে ৩, ৫ ও ৭ নম্বর তারা দুর্বল ধরা হয় — যাত্রা ও শুভ কাজের দিন বাছাইয়ে এই তিনটি এড়ানো হয়। বিবাহ মিলনে বাংলায় দিন, গণ, মহেন্দ্র, স্ত্রীদীর্ঘ, যোনি, রাশি, রাশ্যাধিপতি, বশ্য, রজ্জু ও বেধ — এই দশটি মিলন দেখা হয়: মিলন দেখুন। চন্দ্রাষ্টমের দিনগুলির জন্য চন্দ্রাষ্টম তালিকা।

❓ শতভিষা নক্ষত্র — সচরাচর জিজ্ঞাসা

শতভিষা নামের অর্থ কী?

শত অর্থাৎ একশো, আর ভিষক অর্থাৎ বৈদ্য — ‘একশো বৈদ্য’ বা ‘একশো ওষুধ’। এর সঙ্গে দেবতা বরুণ ও প্রতীক শূন্য বৃত্ত মিলে নিরাময়, গোপনীয়তা ও ঘিরে রাখার ভাব তৈরি করে। চিকিৎসা, ভেষজবিদ্যা ও গবেষণার সঙ্গে এই নক্ষত্রের যোগ সেখান থেকেই।

শতভিষার কোন চরণ বর্গোত্তম?

তৃতীয় চরণ, কুম্ভ ১৩°২০′ থেকে ১৬°৪০′। ওই চরণের নবাংশও কুম্ভ, অর্থাৎ রাশি ও নবাংশ এক। এই চরণে শতভিষার মৌলিকতা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ও গবেষণার ক্ষমতা সবচেয়ে ঘন চেহারা পায়।

শতভিষা ও স্বাতী দুটিরই অধিপতি রাহু — তফাত কী?

স্বাতী তুলায়, দেবতা বায়ু — সেই রাহু দরাদরি, বাণিজ্য ও নমনীয়তার দিকে যায়। শতভিষা কুম্ভে, দেবতা বরুণ — এই রাহু নিরাময়, গবেষণা ও গোপনীয়তার দিকে যায়। একটি বাজারে, অন্যটি পরীক্ষাগারে।