☎ বাংলা জ্যোতিষ পরিষেবা 📅 16 October 2026

রোহিণী নক্ষত্র ফল

Rohini Nakshatra Palan | রোহিণী Natchathira Palangal

Rohini Nakshatra | অধিপতি: চন্দ্র | রাশি: বৃষ

⭐ রোহিণী (Rohini) — এক নজরে

🔢 নক্ষত্র সংখ্যা: 4 🪐 অধিপতি গ্রহ: চন্দ্র ♈ রাশি: বৃষ 📐 বিস্তার: বৃষ ১০°০০′–২৩°২০′ 🕉️ দেবতা: ব্রহ্মা 🔱 প্রতীক: শকট 👥 গণ: মনুষ্য 🐾 যোনি: সর্প (পুং) 💨 নাড়ী: অন্ত্য — কফ 🏷️ বর্ণ: শূদ্র ⏳ আরম্ভ মহাদশা: চন্দ্র, ১০ বছর 🌙 চন্দ্রাষ্টম রাশি: ধনু

📊 চার চরণ ও নবাংশ — Rohini Padas

চরণঅংশরাশিনবাংশসংক্ষেপে
1 ১০°০০′–১৩°২০′ বৃষ মেষ রোহিণীর একমাত্র তাড়াহুড়ো চরণ
2 ১৩°২০′–১৬°৪০′ বৃষ বৃষ বর্গোত্তম — নক্ষত্রের সারাংশ
3 ১৬°৪০′–২০°০০′ বৃষ মিথুন বাণিজ্য ও কথার জোর
4 ২০°০০′–২৩°২০′ বৃষ কর্কট চন্দ্র উচ্চে — মাতৃভাব প্রবল

চন্দ্রের অংশ কোন চরণে পড়ছে তা জানতে জন্মকোষ্ঠী প্রয়োজন — বিনামূল্যে কোষ্ঠী তৈরি করুন।

চরণভেদে ফল

রোহিণী পুরোটাই বৃষে, ১০°০০′ থেকে ২৩°২০′ — অর্থাৎ যে রাশিতে চন্দ্র উচ্চস্থ, সেই রাশির ঠিক মাঝখানে চন্দ্রের নিজের নক্ষত্র। বিংশোত্তরীর ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে এই একটিমাত্র জায়গায় নক্ষত্রপতি ও উচ্চরাশি একসঙ্গে মেলে, আর সেটাই রোহিণীর প্রসিদ্ধ আকর্ষণী শক্তির ভিত্তি।

প্রথম চরণের নবাংশ মেষ — রোহিণীর একমাত্র তাড়াহুড়োপ্রবণ চরণ, যেখানে ধৈর্যের বদলে তাৎক্ষণিক ইচ্ছা কাজ করে। দ্বিতীয় চরণের নবাংশ বৃষ, অর্থাৎ বর্গোত্তম: রাশি ও নবাংশ এক, তাই এই চরণেই রোহিণীর সারাংশ সবচেয়ে বিশুদ্ধ চেহারায় ফোটে — স্থিরতা, রুচি ও সম্পদ। তৃতীয় চরণে মিথুন নবাংশ বাণিজ্য, দালালি ও কথার জোর যোগ করে। চতুর্থ চরণে কর্কট নবাংশে চন্দ্র নিজের রাশিতে বসেন, ফলে মাতৃভাব ও ঘরের টান সবচেয়ে প্রবল।

স্বভাব ও মানসিক গঠন

দেবতা ব্রহ্মা — সৃষ্টিকর্তা; প্রতীক শকট — যাতে ফসল বওয়া হয়। রোহিণী তাই তৈরি করে এবং ভরে রাখে। মনুষ্য গণ ও সর্পযোনির যোগে বাইরে শান্ত ভদ্রতা, ভিতরে তীক্ষ্ণ হিসাব — অপমান এঁরা ভোলেন না। কফ নাড়ী স্থিরতা দেয়, শূদ্র বর্ণ হাতে-কলমে কাজের প্রতি সম্মান। তিনটি চন্দ্র-নক্ষত্রের মধ্যে রোহিণীর চন্দ্র সঞ্চয় করে, হস্তার চন্দ্র কাজ করে আর শ্রবণার চন্দ্র শোনে। দোষের দিক — অধিকারবোধ ও একগুঁয়েমি।

কর্মক্ষেত্র

শকট ও বৃষ রাশির যোগে যা কিছু মাটি, খাদ্য ও ভাণ্ডার সংক্রান্ত: কৃষি ও কৃষিপণ্য, দুগ্ধ ও মিষ্টান্ন, রেস্তোরাঁ, বস্ত্র ও শাড়ি, অলঙ্কার, অন্দরসজ্জা, রিয়েল এস্টেট। চন্দ্রের প্রভাবে সঙ্গীত, অভিনয় ও গণমাধ্যমেও রোহিণী উজ্জ্বল, কারণ জনতাকে টানার ক্ষমতা এই নক্ষত্রের সহজাত। দ্রুত ঝুঁকির ব্যবসায় এঁরা স্বচ্ছন্দ নন।

বিবাহ ও দাম্পত্য

সর্পযোনির বিরোধী নকুল — উত্তরাষাঢ়ার সঙ্গে যোনিমিলনে সতর্কতা প্রয়োজন। রোহিণী মধ্যরজ্জু; একই রজ্জুর মিলন বাংলায় এড়ানো হয়। দাম্পত্যে রোহিণী সাধারণত সুখী, কারণ ঘর সাজানো ও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখায় এঁদের আগ্রহ প্রকৃত। তবে অধিকারবোধ বেশি বলে সঙ্গীর স্বাধীনতা নিয়ে টানাপড়েন হতে পারে; দশ মিলনের হিসাব মিলন পাতায় দেখে নেওয়া ভাল।

দশা ও সময়

রোহিণীতে জন্ম মানে জীবন শুরু চন্দ্র মহাদশা দিয়ে, দৈর্ঘ্য ১০ বছর। শৈশব-বাল্য পুরোটাই মায়ের ও ঘরের প্রভাবে কাটে, আর চন্দ্র এখানে উচ্চস্থ রাশিতে বলে সেই দশার ফল সাধারণত অনুকূল। চন্দ্রের পর আসে সাত বছরের মঙ্গল মহাদশা, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কৈশোরে — পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতার চাপের সময়টি ঠিক তখনই পড়ে।

স্বাস্থ্য ও সুস্থতা

অন্ত্য বা কফ নাড়ীর নক্ষত্র, আর বৃষ রাশি কণ্ঠ ও মুখমণ্ডলের অঙ্গ। সাধারণ সুস্থতার দিক থেকে মিষ্টি ও ভারী খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত হাঁটা — এইটুকুই যথেষ্ট। গানবাজনার চর্চা থাকলে গলার বিশ্রামও দরকার। এটি কোনও রোগনির্ণয় নয়; শারীরিক সমস্যায় চিকিৎসকই ভরসা।

বাংলায় প্রচলিত প্রতিকার

রোহিণী শ্রীকৃষ্ণের জন্মনক্ষত্র, আর বাংলায় বৈষ্ণব ধারার কেন্দ্র নবদ্বীপ। নবদ্বীপের রাসযাত্রা — কার্তিক পূর্ণিমার শাক্ত-বৈষ্ণব মিলমিশে গড়া উৎসব — এবং জন্মাষ্টমীর মধ্যরাত্রির অনুষ্ঠান রোহিণী জাতকের পক্ষে অর্থবহ। চন্দ্রের জন্য বাংলায় আলাদা মন্দির নেই; সোমবারে শিবপুজো ও পূর্ণিমার উপবাস ঘরোয়া স্তরেই টিকে আছে। বাস্তব প্রতিকার — পূর্ণিমায় দুধ, চাল বা মিষ্টান্ন দান, এবং নবদ্বীপ বা মায়াপুরে গিয়ে থাকলে সেখানকার অন্নসেবায় হাত লাগানো। রোহিণীর শকট-প্রতীকের সঙ্গে খাদ্যদানই সবচেয়ে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

রোহিণী নক্ষত্রের কোন চরণ বর্গোত্তম?

দ্বিতীয় চরণ, বৃষ ১৩°২০′ থেকে ১৬°৪০′। ওই চরণের নবাংশও বৃষ, অর্থাৎ রাশি ও নবাংশ এক — একেই বর্গোত্তম বলে। এই চরণে রোহিণীর স্থিরতা, রুচি ও সঞ্চয়ের গুণ সবচেয়ে বিশুদ্ধ চেহারা পায়।

রোহিণীকে কেন সবচেয়ে আকর্ষণীয় নক্ষত্র বলা হয়?

কারণ রোহিণী বৃষ রাশির মাঝখানে পড়ে, আর বৃষ চন্দ্রের উচ্চরাশি। ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে এই একটিতেই নক্ষত্রপতি চন্দ্র নিজের উচ্চরাশির ভিতরে থাকেন। এর সঙ্গে ব্রহ্মা দেবতা ও শকট প্রতীক যোগ হয়ে সৃষ্টি, পালন ও আকর্ষণের ভাব তৈরি করে।

রোহিণী জাতকের প্রথম মহাদশা কোনটি ও কত বছরের?

চন্দ্র মহাদশা, পূর্ণ দৈর্ঘ্য ১০ বছর। জন্মের সময় চন্দ্র রোহিণীর কতটা পার করেছে তার উপর নির্ভর করে কত বছর বাকি থাকে। চন্দ্রের পরে সাত বছরের মঙ্গল মহাদশা আসে, যা সাধারণত কৈশোরে পড়ে।

🎯 তারাবল ও মিলন — রোহিণী থেকে গোনা

সম্পৎ তারা (২)মৃগশিরা, চিত্রা, ধনিষ্ঠা
ক্ষেম তারা (৪)পুনর্বসু, বিশাখা, পূর্বভাদ্রপদ
মিত্র তারা (৮)পূর্বফাল্গুনী, পূর্বাষাঢ়া, ভরণী
বিপৎ তারা (৩)আর্দ্রা, স্বাতী, শতভিষা
প্রত্যরি তারা (৫)পুষ্যা, অনুরাধা, উত্তরভাদ্রপদ
বধ তারা (৭)মঘা, মূলা, অশ্বিনী

জন্মনক্ষত্র থেকে গুনে ৩, ৫ ও ৭ নম্বর তারা দুর্বল ধরা হয় — যাত্রা ও শুভ কাজের দিন বাছাইয়ে এই তিনটি এড়ানো হয়। বিবাহ মিলনে বাংলায় দিন, গণ, মহেন্দ্র, স্ত্রীদীর্ঘ, যোনি, রাশি, রাশ্যাধিপতি, বশ্য, রজ্জু ও বেধ — এই দশটি মিলন দেখা হয়: মিলন দেখুন। চন্দ্রাষ্টমের দিনগুলির জন্য চন্দ্রাষ্টম তালিকা।

❓ রোহিণী নক্ষত্র — সচরাচর জিজ্ঞাসা

রোহিণী নক্ষত্রের কোন চরণ বর্গোত্তম?

দ্বিতীয় চরণ, বৃষ ১৩°২০′ থেকে ১৬°৪০′। ওই চরণের নবাংশও বৃষ, অর্থাৎ রাশি ও নবাংশ এক — একেই বর্গোত্তম বলে। এই চরণে রোহিণীর স্থিরতা, রুচি ও সঞ্চয়ের গুণ সবচেয়ে বিশুদ্ধ চেহারা পায়।

রোহিণীকে কেন সবচেয়ে আকর্ষণীয় নক্ষত্র বলা হয়?

কারণ রোহিণী বৃষ রাশির মাঝখানে পড়ে, আর বৃষ চন্দ্রের উচ্চরাশি। ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে এই একটিতেই নক্ষত্রপতি চন্দ্র নিজের উচ্চরাশির ভিতরে থাকেন। এর সঙ্গে ব্রহ্মা দেবতা ও শকট প্রতীক যোগ হয়ে সৃষ্টি, পালন ও আকর্ষণের ভাব তৈরি করে।

রোহিণী জাতকের প্রথম মহাদশা কোনটি ও কত বছরের?

চন্দ্র মহাদশা, পূর্ণ দৈর্ঘ্য ১০ বছর। জন্মের সময় চন্দ্র রোহিণীর কতটা পার করেছে তার উপর নির্ভর করে কত বছর বাকি থাকে। চন্দ্রের পরে সাত বছরের মঙ্গল মহাদশা আসে, যা সাধারণত কৈশোরে পড়ে।