বঙ্গাব্দ ও বাংলা পঞ্জিকা
বাংলার নিজস্ব একটি কালগণনা পদ্ধতি আছে — বঙ্গাব্দ। এই বর্ষগণনা আজও পূজা-পার্বণ, বিবাহ ও জ্যোতিষচর্চায় ব্যবহৃত হয়।
সৌরমাস পদ্ধতি
বাংলা পঞ্জিকা সৌরমাস অনুসরণ করে। সূর্য এক রাশি থেকে পরবর্তী রাশিতে প্রবেশ করলে নতুন মাস শুরু হয় — একে সংক্রান্তি বলা হয়। বারোটি বাংলা মাস: বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র।
পয়লা বৈশাখ — বর্ষারম্ভ
বঙ্গাব্দ শুরু হয় পয়লা বৈশাখে, ইংরেজি এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি। ফসল তোলার পর সমৃদ্ধির কাল শুরু হয় বলেই এই মাসকে বর্ষারম্ভ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। হালখাতা এই দিনেরই ঐতিহ্য।
আশ্বিন — দেবীপক্ষের মাস
বাংলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসগুলির একটি আশ্বিন। মহালয়ার মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয় এবং শারদীয়া দুর্গাপূজা এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্জিকা দেখেই ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পূজার লগ্ন নির্ধারিত হয়।
দুই পঞ্জিকার প্রসঙ্গ
বাংলায় বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও সূর্য সিদ্ধান্ত — এই দুই ধারার পঞ্জিকা প্রচলিত। তিথি নির্ণয়ে দুই পঞ্জিকায় কখনও একদিনের পার্থক্য দেখা যায়, যার ফলে পূজার তারিখেও ভিন্নতা আসতে পারে। পারিবারিক প্রথা অনুসারে যে কোনো একটি অনুসরণ করাই রীতি।
জ্যোতিষে এর প্রয়োজনীয়তা
জন্মতারিখ বাংলা মাস অনুসারে জানা থাকলে তা নির্ভুলভাবে ইংরেজি তারিখে রূপান্তর করা যায়। জন্মনক্ষত্র অনুযায়ী বার্ষিক পালন, শ্রাদ্ধ ও মুহূর্ত নির্ণয় — সবই এই পঞ্জিকার উপর নির্ভরশীল।
আজকের তিথি, নক্ষত্র ও পঞ্চাঙ্গ তথ্য পঞ্চাঙ্গ পাতায় দেখুন।
বৈদিক জ্যোতিষের প্রাচীন গ্রন্থ অধ্যয়ন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান গণনার সফটওয়্যার নির্মাণে আগ্রহী। এই সাইটের সমস্ত গণনা আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের সূত্র (গ্রহাবস্থান, অয়নাংশ, বিংশোত্তরী দশা) ব্যবহার করে করা হয়; নিবন্ধের বিষয়বস্তু বৃহৎ পরাশর হোরা শাস্ত্র, ফলদীপিকা ও প্রচলিত বাংলা পঞ্জিকা-ঐতিহ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা হয়।
⚠️ এই নিবন্ধ কেবল সাধারণ তথ্যের জন্য। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ নিন।